• ঢাকা
  • রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. শিক্ষা

রাণীনগরে ৫৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের বিম-ওয়ালে ফাটল


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:২১ পিএম;
রাণীনগরে ৫৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের বিম-ওয়ালে ফাটল

মো: গোলাম মোরশেদ,রাণীনগর (নওগাঁ) :

 

নওগাঁর রাণীনগরে ১০০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৩টি বিদ্যালয় ভবনের বিম-ওয়ালে ফাটল ধরেছে এবং খসে পরছে ভবনের ছাদের পলেস্তারা| আবার কোথাও পুরো ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষনার পরেও প্রায় এক বছর ধরে চরম আতংক-উৎকন্ঠার মধ্যে জীবনের ঝুঁনিয়েই পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা| ফলে যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকায় অনেক অভিভাবকরা তাদের কমলমতি শিশুকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে সংকোচবোধ করছেন| উপজেলার ১০০টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে| এর মধ্যে ২৫টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষাদপ্তর|
সরেজমিন রাণীনগর উপজেলার পিরেরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক মাহাতাব হোসেন জানান,১৯৮৬সালে স্থাপিত বিদ্যালয়ে ১৯৯৬সালে ভবন নির্মান করা হয়| কিন্তু ভবন নির্মানের মাত্র ৩০বছরেই করুন অবস্থা দেখা দিয়েছে| তিনি বলেন,গত বছরের ২৩ ডিসেম্বরের উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শণ করে অত্যধিক ঝঁকিপুর্ন বিবেচনায় পুরো বিদ্যালয় ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে চিঠি দিয়েছেন| কিন্তু দীর্ঘ ১০মাস ধরে বিদ্যালয়ে কোন ভবন না পাওয়ায় এবং বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারায় বাধ্য হয়ে জীবনের সর্বোচ্চ ঝঁকি নিয়েই পরিত্যাক্ত ভবনে পাঠদান অব্যাহত রাখতে হয়েছে|
রাণীনগর উপজেলার ৩৮নং কসবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন,বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেনীকক্ষ অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে| ফলে টিনের ছাউনির একটি ঘরে পাঠদান করানো হচ্ছে| এছাড়া আরো একটি ভবনের রুমে ওয়ালে ফাটল এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পরেছে| কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই ওই রুমে পাঠদান অব্যাহত রাখতে হয়েছে|
ওই বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের বাবা মহসিন আলী বলেন,মাথার উপর ছাদের পলেস্তারা খসে পরছে| যে কোন সময় পুরো ছাদই ভেঙ্গে পরে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে| যে কারনে বেশ কয়েকদিন সন্তানকে বিদ্যালয়ে যেতে দেইনি| কিন্তু শিক্ষকদের অনুরোধে বিদ্যালয়ে পাঠালেও সন্তান বাড়ী না ফেরা পর্যন্ত চরম আতংকে দিন পার করতে হচ্ছে| তাই শিশুদের নিরাপদ রাখতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মানের দাবি জানান তিনি|
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তালিকা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলো হলো উপজেলার পিরেরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরদার কয়া ও বড়িয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ভেবড়া কালীগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভান্ডারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দামুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,রাতোয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সঞ্জয়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,খাসকামতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,নারায়নপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,কাশিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,জয়সার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,করজগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষিকোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সিম্বা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাসপারইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,কৃষ্ণপুর মালঞ্চি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,এনায়েতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,আনালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,পালশাকৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,তেবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাদালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝগ্রাম মধুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,রাণীনগর (২) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,ছয়বাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় |
রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী বলেন, ইতি মধ্যে ২৫টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ন হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তালিকা পাঠানো হয়েছে| এছাড়া অন্যান্য বিদ্যালয়গুলো দেখে নতুন করে তালিকা ˆতরি এবং সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে|
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান বলেন,ধরণ অনুযায়ী ৫৫টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য তালিকা করা হয়েছে| এছাড়া যেগুলো তালিকার বাহিরে রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে| আর পিরেরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম| উপজেলা প্রশাসন থেকে টিনের বেড়া দিয়ে পাঠদানের বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে|
নওগাঁ-৬,(আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি শেখ মো: রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন,শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে|

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন