• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. উৎসব / দিবস

ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ক: ৭০ মৃত্যুফাঁদে পাঁচ বছরে প্রাণ হারিয়েছে আড়াই হাজারের কাছাকাছি মানুষ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৭ পিএম;
ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ক: ৭০ মৃত্যুফাঁদে পাঁচ বছরে প্রাণ হারিয়েছে আড়াই হাজারের কাছাকাছি মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ জনপদের যোগাযোগের দ্বার উন্মোচিত হলেও ভাঙ্গা–বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কটি এখন পরিণত হয়েছে এক মরণফাঁদে। মহাসড়কের বড় একটি অংশ এখনো সরু দুই লেনের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য বিপজ্জনক বাঁক, খানাখন্দ, অপরিকল্পিত বাজার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে দিন দিন ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কে রয়েছে প্রায় ৭০টি বিপজ্জনক বাঁক, যার অন্তত ৪০টি অত্যন্ত দুর্ঘটনাপ্রবণ।

পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। সেতু চালুর আগে দৈনিক ১৭ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজারে। অথচ মহাসড়কের বড় একটি অংশ এখনো মাত্র ২৪ থেকে ৩০ ফুট প্রশস্ত দুই লেনেরই রয়ে গেছে। এর ফলে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে অবাধে চলছে ধীরগতির নানা যানবাহন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে থাকা তী্ণ বাঁকের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির যানবাহন একে অপরকে সময়মতো দেখতে পায় না। ফলে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারালে মুখোমুখি সংঘর্ষের তীব্র আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় চালক ও পরিবহন মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

গৌরনদীর ভূরঘাটা, টরকী, আশোকাঠী, মাহিলাড়া ও বাটাজোড়।

উজিরপুরের সানুহার, বামরাইল ও জয়শ্রী।

বাবুগঞ্জের নতুনহাট ও রহমতপুর।

বরিশালের গড়িয়ারপাড়, দপদপিয়া ও নলছিটি।

বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা ও ভরপাশা।

এছাড়া আমতলী ও কলাপাড়ার বিভিন্ন অংশ।

বিশেষ করে বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালীর চৌরাস্তা থেকে আমতলীর বান্দ্রা পর্যন্ত মাত্র ৪৯ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে ৪০টি ভয়ংকর বাঁক। সম্প্রতি পটুয়াখালীর বসাক বাজার এলাকায় একটি বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। এর কিছু দিন আগেও একই এলাকায় বাস ও মোটরবাইক সংঘর্ষে এক চালক প্রাণ হারান।

সড়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহনের সংখ্যা ও গতি বাড়লেও সে তুলনায় পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে—

সড়কের ওপর নিয়মিত হাটবাজার বসানো।

অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র পথচারী পারাপার।

বাঁকের মুখেও চালকদের দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো ও বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা।

ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি প্রকাশ করে দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, “আমার ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে গেছে। চিকিৎসা আর ওষুধের খরচ জোগাতে গিয়ে সব জমিজমা বিক্রি করে এখন আমরা নিঃস্ব।”

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ সড়কে পর্যাপ্ত ট্রাফিক সংকেত, গতি নিয়ন্ত্রণ বা আলোর কোনো ব্যবস্থা নেই।”

সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু চালকদের সচেতন করে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। অবিলম্বে বিপজ্জনক বাঁকগুলো সরলীকরণ, স্পষ্ট সড়ক নির্দেশক ও সাইনবোর্ড স্থাপন, রাতের আলোর ব্যবস্থা এবং সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা ও বাজার সরাতে হবে। একই সঙ্গে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত না করলে এই সড়কে প্রাণহানির মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন