• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

বোয়ালমারী পৌরসভায় জনবল জট: কাজ ছাড়াই কোটি টাকার বেতন গুনছেন ১৮ কর্মী!


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৫৫ পিএম;
বোয়ালমারী পৌরসভায় জনবল জট: কাজ ছাড়াই কোটি টাকার বেতন গুনছেন ১৮ কর্মী!

​বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:


প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের চাপে একপ্রকার দিশেহারা ফরিদপুরের বোয়ালমারী 'এ' গ্রেডের পৌরসভা। বর্তমানে এখানে মোট ৪৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও নিয়মিত কাজ করছেন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন। বাকি ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার সরকারি ভাতা ও বেতন তুলে নেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। সচল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকলেও পাম্প চালক কিংবা বছরে দু-একবার ব্যবহৃত রোলারের জন্য একাধিক চালক বহাল রাখায় দিন দিন ধসে পড়ছে পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা।
​
​স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন (২০০০ সাল) থেকে প্রায় দুই দশক সীমিত জনবলেই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছিল পৌরসভার কার্যক্রম। তবে ২০২২ সালে একযোগে ১৬ জন নতুন কর্মী নিয়োগের পর থেকেই জনবল ও ব্যয়ের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে।
​সরেজমিনে পাওয়া গেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য:
​পানি নেই, তবু আছেন পাম্প চালক ও বিল সংগ্রাহক: পৌরসভায় বর্তমানে কোনো সচল পানির পাম্প বা পাইপলাইন ব্যবস্থা নেই। তা সত্ত্বেও একজন পাম্প চালক, একজন পাইপলাইন মেকানিক এবং পানির বিল আদায়ের জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
​বছরে দু-এক দিন কাজ, বেতন বারো মাস: পুরো বছরে মাত্র ২-১ বার রোলার ব্যবহার করা হলেও দুজন রোলার চালক মাস শেষে নিয়মিত পুরো বেতন তুলছেন।
​নিষ্ক্রিয় টিকাদান শাখা: টিকাদানকারী পদে দুজন এবং সুপারভাইজার পদে একজন কর্মরত থাকলেও পৌরবাসী কখনোই তাদের মাধ্যমে নিয়মিত কোনো টিকাদান সেবা পাননি।
​অতিরিক্ত পদ: বাজার পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, কার্য সহকারী, অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক ও ট্রাক চালক পদেও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল অলস বসে দিন কাটাচ্ছেন।
​নাগরিক ক্ষোভ ও উন্নয়ন স্থবিরতা
​পৌরসভার সীমিত নিজস্ব আয়ের সিংহভাগই যদি এসব অলস কর্মচারীদের পেছনে চলে যায়, তবে রাস্তাঘাট নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো মৌলিক নাগরিক সেবাগুলো মারাত্মক অর্থসংকটে পড়বে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
​কাজ না করে বেতন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সিকদার মনিরুজ্জামান বলেন—
​"পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট কাজ না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পৌরসভার অন্যান্য দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কেউ বসে বসে বেতন নিচ্ছেন না।"
​অন্যদিকে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক এস এম রকিবুল হাসান জানান—
​"নিয়মতান্ত্রিক পন্থায়ই শূন্য পদগুলোতে কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিছু প্রকল্প বর্তমানে বন্ধ থাকলেও কোনো কর্মচারীরই বসে বসে বেতন নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা তাদের বিভিন্ন বিকল্প কাজে ও প্রকল্পে ব্যবহার করছি।"

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন