• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. লাইফস্টাইল ও বিউটি টিপস

৩ মাস ধরে নিখোঁজ স্ত্রী, সন্ধান মিলল কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক ভিডিওতে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৪৭ পিএম;
৩ মাস ধরে নিখোঁজ স্ত্রী, সন্ধান মিলল কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক ভিডিওতে


তিন মাস ধরে ঘরের দরজা খুললেই যে মুখটি খুঁজতেন আলী হোসেন, সেই মুখটির দেখা মিলছিল না কোথাও। স্ত্রী আলেয়া বেগম কোথায় আর কেমন আছেন—এই উৎকণ্ঠায় কেটেছিল তাঁর দিন-রাত। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও কোনো সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েছিল পুরো পরিবার। তবে অবশেষে সামাজিক 
যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভিডিও পাল্টে দিয়েছে সবকিছু। রাস্তার পাশে এক অসহায় নারীকে দেখে ভিডিওর মাধ্যমেই স্ত্রীকে চিনতে পারেন স্বামী আলী হোসেন। এরপর ছুটে গিয়ে অবশেষে ঘরে ফিরিয়ে আনলেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া সঙ্গীকে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামে আলী হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পরিবারে ফিরেছে স্বস্তির সুবাতাস। স্বজনেরা আলেয়া বেগমকে ঘিরে রেখেছেন এবং খবর পেয়ে প্রতিবেশীরাও তাঁকে দেখতে ভিড় করছেন। দীর্ঘদিন বাইরে কাটিয়ে আসার কারণে বর্তমানে তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ 
যত্ন নিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন আলেয়া বেগম। মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় তিনি নিজের নাম-পরিচয় বা বাড়ির ঠিকানা ঠিকমতো বলতে পারতেন না। তাঁর সন্ধানে সম্ভাব্য সব জায়গায় হন্যে হয়ে ঘুরেছেন স্বজনেরা, মাইকিং ও বিভিন্ন মাধ্যমে নিখোঁজের খবরও প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সূত্রই মিলছিল না।

অবশ্য শেষ পর্যন্ত আশার আলো হয়ে আসে একটি ভিডিও। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় রাস্তার পাশে এক অসহায় নারীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ঘুরতে দেখেন স্থানীয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক। ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ নামের ফেসবুক পেজ ও প্ল্যাটফর্মে তিনি নারীটির একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া
 সেই ভিডিওটি একপর্যায়ে আলী হোসেনের নজরে আসে। ভিডিওর নারীটিকে দেখেই তিনি বুঝতে পারেন, ইনিই তাঁর নিখোঁজ স্ত্রী আলেয়া।

ভিডিওটি দেখার পর আর কালক্ষেপণ করেননি আলী হোসেন। দ্রুত সিংগাইরের গোবিন্দলে ছুটে যান তিনি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সেখানে পৌঁছে স্ত্রীকে সামনাসামনি দেখার পর আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘ তিন মাসের বিচ্ছেদ শেষে স্ত্রীকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আলী হোসেন। 
স্বামীকে দেখা মাত্রই আলেয়া বেগমও তাঁকে চিনতে পারেন। এমন হৃদয়বিদারক ও আবেগময় দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজনের চোখও সজল হয়ে ওঠে।

আলেয়া বেগমের পরিবার জানায়, তাঁকে ফিরে পাওয়ার মাধ্যমেই তাঁদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। এখন তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক বলেন, "রাস্তার পাশে অসহায় নারীটিকে দেখার পরই মনে হয়েছিল, তাঁকে যেকোনো উপায়ে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। সেই ভাবনা থেকেই ভিডিওটি তৈরি ও প্রকাশ করি। শেষ পর্যন্ত তাঁর স্বামী এসে তাঁকে নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যেতে পেরেছেন—এতে আমিও ভীষণ আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত।"

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং একজন মানবিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বদৌলতে অবসান ঘটল তিন মাসের দীর্ঘ বিচ্ছেদের। হারিয়ে যাওয়া আলেয়া বেগম এখন আপন ঠিকানায়, ফিরে এসেছেন স্বজনদের মায়াবী ছায়ায়।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন