রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা তুঙ্গে
অভিষেক চন্দ্র রায়, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
দুর্গাপূজা সামনে রেখে রাণীশংকৈলে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাটি, খড় ও বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত তারা। পূজার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, কারিগরদের ব্যস্ততাও ততই বাড়ছে।
প্রতিমা তৈরির কারিগরদের কেউ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ খড় দিয়ে প্রতিমার অবয়ব দিচ্ছেন, আবার কেউ মাটির প্রলেপ দিয়ে নিখুঁতভাবে প্রতিমার আকৃতি ফুটিয়ে তুলছেন। প্রাথমিক কাজ শেষ করে অনেক কারিগর এখন প্রতিমার সৌন্দর্য, মুখাবয়বের ও সূক্ষ্ম কারুকাজে মনোযোগ দিচ্ছেন।
প্রতিমাশিল্পী সুফল দেব বলেন, “একটি প্রতিমা তৈরি করতে সাধারণত ১ থেকে দের মাস সময় লাগে। পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপ বেড়েছে। সময়মতো প্রতিমা সরবরাহ করতে আমাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।” তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে বৃষ্টি হলে মাটি শুকানো ও রং করার কাজে কিছুটা বিলম্ব ঘটে।
কারিগররা জানান, প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে কাঠামোর ওপর অবয়ব তৈরি করে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে প্রতিমায় সূক্ষ্ম কারুকাজ, মুখাবয়ব ও অলংকারের নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। সবশেষে রং, পোশাক, অলংকার ও বিভিন্ন সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়। প্রতিমা তৈরিতে নদী বা পুকুরের পলিমাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ, কাপড় ও প্রাকৃতিক রংসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরেক কারিগর নারায়ণ চন্দ্র বলেন, “প্রতিমা তৈরির কাজ শুধু জীবিকা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও শিল্পের অংশ। প্রতিটি প্রতিমার মুখাবয়ব ও নকশায় আলাদা যত্ন নিতে হয়। পূজামণ্ডপে প্রতিমা স্থাপনের পর দর্শনার্থীদের প্রশংসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
এদিকে পূজা ঘনিয়ে আসায় রাণীশংকৈলে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কর্তৃপক্ষ ও প্রতিমার কাজ দ্রুত শেষ করতে কারিগরদের তাগাদা দিচ্ছেন কমিটির লোকজন। কাতিহার পুজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিব রায় জানান, “মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিমা স্থাপনের কাজও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে। তাই কারিগরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
কারিগররা জানান, প্রতিমার আকার, নকশা ও সাজসজ্জার ওপর নির্ভর করে তৈরির খরচ ভিন্ন হয়। ছোট প্রতিমা তৈরিতে তুলনামূলক কম সময় ও শ্রম লাগলেও বড় প্রতিমার জন্য বেশি কারিগর, উপকরণ ও সময় প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাঁশ, খড়, মাটি, রং ও অলংকারের উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে বলে জানান তারা।
কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির তৈরি প্রতিমাগুলো ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত রূপ নিচ্ছে। তাদের তৈরি প্রতিমা দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কারখানা ও মণ্ডপে ভিড় করছেন। পূজার আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলতে কারিগরদের এই পরিশ্রম ও শিল্পকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিমা তৈরির কারিগররা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রতিমার কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা রাখছি। তাদের নিপুণ কারুকাজে এবারও উৎসবের আমেজে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে প্রত্যাশা সবার।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আমানুল্লাহ আমান জানান, রাণীশংকৈলে ৫৫ টি পুজা মন্ডপ রয়েছে আমরা অতিযত্নসহকারে প্রতিটি পুজা মন্ডপ ঘুরে দেখেছি কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যে আমরা প্রতিটি সুজা মন্ডলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে মিটিং করেছি ।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: