• ঢাকা
  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. শিক্ষা

অনুপস্থিত দেখানোয় ক্ষুব্ধ শিক্ষিকা, স্বামীকে দিয়ে পেটালেন প্রধান শিক্ষককে!


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:২৩ এএম;
অনুপস্থিত দেখানোয় ক্ষুব্ধ শিক্ষিকা, স্বামীকে দিয়ে পেটালেন প্রধান শিক্ষককে!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১২নং পস্থাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানাকে হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখানোকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই চত্বরে অবস্থিত পস্থাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও তাঁর স্বামী শাহ আনিছুল হক এবং দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গত বুধবার সকালে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে এই হামলা চালান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) এ বি এম সালাহ উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকায় প্রধান শিক্ষক তা খাতায় লিপিবদ্ধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাসরিন সুলতানা তার স্বামী শিক্ষক শাহ আনিছুল হককে জানান। স্বামী আনিছুল হক ৮-১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিসে ঢুকে জোরপূর্বক অনুপস্থিতি মুছে ‘উপস্থিত’ লিখতে চাপ দেন।

প্রধান শিক্ষক অস্বীকৃতি জানালে আনিছুল হক তার শার্টের কলার ধরে মারধর শুরু করেন। এ সময় শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা শিক্ষার্থীদের উসকানি দিলে তারাও প্রধান শিক্ষককে কিল-ঘুষি মারে এবং আনিছুল হক গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তিতে প্রধান শিক্ষকের চশমা ভেঙে যায়। পরে অন্য শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সহকারী শিক্ষিকা মর্তুজা বেগম বলেন, নিজ কক্ষে প্রধান শিক্ষককে এভাবে মারধর করতে দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক সালাহ উদ্দিন জানান, সরকারি নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করায় তার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক আনিছুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।

এ জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। এলাকার লোকজনের সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছি, আশা করি দ্রুত মীমাংসা হবে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি এখনো জানেন না। খোঁজ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন