• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. আবহাওয়া / পরিবেশ

উপকূলের মানুষের কথা শুনতে ৭৫০ কিলোমিটার হাঁটছেন হাইকার টনি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৩৫ পিএম;
উপকূলের মানুষের কথা শুনতে ৭৫০ কিলোমিটার হাঁটছেন হাইকার টনি

লিটু, কুয়াকাটা প্রতিনিধি:

 

জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরাপদ সুপেয় পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বার্তা নিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৭৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিচ্ছেন হাইকার ও পরিবেশকর্মী মাসফিকুল হাসান টনি (২৯)। ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ নামের এই দীর্ঘ অভিযানের সপ্তম দিনে ২৪৫.২৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে এসে পৌঁছান তিনি।

কুয়াকাটায় পৌঁছানোর পর সেখানে রাত্রিযাপন করেন এই পরিবেশকর্মী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অভিযানের অষ্টম দিনে তাঁর রাঙ্গাবালী পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

এ বিষয়ে টনি বলেন, “২০ সেপ্টেম্বর অভিযানের সপ্তম দিনে ২৪৫.২৬ কিলোমিটার পেরিয়ে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে পৌঁছেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অষ্টম দিনে রাঙ্গাবালীতে পৌঁছানোর ইচ্ছে রয়েছে।”

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পাঁচ নদীর মুখ থেকে এই পদযাত্রা শুরু করেন টনি। উপকূলের প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষের জীবন-জীবিকা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করা এবং এসব বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিই তাঁর এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

অভিযানের পথে পাথরঘাটার মাছের আড়তে গিয়ে উপকূলের ভোরের কর্মব্যস্ততা প্রত্যক্ষ করেন তিনি। এরপর বিষখালী নদী পার হয়ে বিভিন্ন গ্রাম অতিক্রম করে পায়রা নদীর তীরে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে নদী ও তাঁদের জীবন-জীবিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

স্থানীয় কয়েকজন জেলের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় পায়রা নদীতে মাছের প্রাপ্যতা বেশ কমে গেছে। বিষখালী নদীতে তুলনামূলক মাছ পাওয়া গেলেও পায়রায় ইলিশ ও পোয়া ছাড়া অন্যান্য মাছের দেখা মেলা ভার।

এ প্রসঙ্গে টনি বলেন, “ন নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলে, নৌকা, জাল, মাছের আড়ত, বাজার এবং উপকূলের বহু পরিবারের জীবিকা। তাই নদীর স্বাস্থ্য ও মানুষের জীবিকার সম্পর্কটি যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া দরকার।”

পায়রা নদী পার হয়ে তালতলী এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও তরুণেরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি। এরপর বৃষ্টি ও প্রতিকূল পথ পেরিয়ে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ধরে তেঁতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, কিল্লা ও মরা নিদ্রার চর অতিক্রম করে কুয়াকাটায় পৌঁছান টনি।

নাটোরের বড়াইগ্রামের (বনপাড়া) বাসিন্দা টনি পেশায় ‘বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশন’-এর নির্বাহী পরিচালক। ২০১৯ সাল থেকেই দীর্ঘপথে হাইকিং করে আসছেন তিনি। এর আগে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ভোমরা থেকে সাকা হাফং এবং রৌমারী থেকে চর কুড়িয়াসহ বিভিন্ন দীর্ঘপথের সফল অভিযানে অংশ নিয়েছেন তিনি।

তবে এবারের এই অভিযানকে শুধু অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে দেখছেন না টনি। তাঁর ভাষায়, “অ্যাডভেঞ্চার শুধু নিজের আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। উপকূল ধরে হাঁটার সময় মানুষের কথা শুনছি এবং তাঁদের এই বার্তা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”

কুয়াকাটা থেকে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য রাঙ্গাবালী। এরপর ভোলা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূল ধরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর। সাত দিনে ২৪৫.২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া টনির সামনে এখন বাকি রয়েছে আরও প্রায় ৫০৫ কিলোমিটার পথ।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন