প্রেস ক্লাবের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

Publish: 1 month ago ( 1395)

স্টাফ রিপোর্টার:

জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় গাজী আনিস  নামে এক ব্যবসায়ী গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সোমবার (৪ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। তিনি কুষ্টিয়ার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।  গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেছে।  

 

শাহবাগ থানার এসআই গোলাম হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি আত্মহত্যা চেষ্টাকারীর নাম আনিস। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে। হেনোলাক্স কোম্পানির কাছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পান আনিস। দীর্ঘদিন ধরে এ টাকা না দেওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান এসআই গোলাম হোসেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন জানান,  আনিসের শরীরের ৯০ শতাংশ বার্ন হয়েছে।

 

গত ৩১ মে জাতীয় প্রেস ক্লা‌বে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌ন করেছিলেন গাজী আনিস। সেখানে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে হেনোলাক্স গ্রুপের কর্ণধার মো. নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের সাথে আমার সখ্যতা এবং আন্তরিকতা গড়ে উঠে। ২০১৮ সালে কলকাতা হোটেল বালাজিতে একইসঙ্গে অবস্থানকালে তারা আমাকে হেনোলাক্স গ্রুপে বিনিয়োগের এবং যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে বলে জানান। আমি প্রথমে অসম্মতি জ্ঞাপন করলেও পরে রাজি হই এবং প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। পরে আরও ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি (অধিকাংশ টাকা ঋণ হিসেবে আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে নেয়া)। 

 

তিনি বলেন, বিনিয়োগ করার সময় পরস্পরের প্রতি সম্মান এবং বিশ্বাসের কারণে এবং তাদের অনুরোধে চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি চুক্তি করা হয়নি, তবে প্রাথমিক চুক্তি করা হয়েছে। বিনিয়োগ পরবর্তী চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি চুক্তিপত্র সম্পাদন করার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তারা গড়িমসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা প্রতিমাসে যে লভ্যাংশ প্রদান করতেন সেটাও বন্ধ করে দেন এবং কয়েকবার তাদের লোকজন দ্বারা আমাকে হেনস্তা ব্ল্যাকমেইল করেন এবং করার চেষ্টা করেন। বর্তমানে লভ্যাংশসহ আমার ন্যায্য পাওনা তিন কোটি টাকার বেশি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া আদালতে আমি তাদের আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেছি, যা বিচারাধীন।

 

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গাজী আনিসুর রহমান কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি বাজার এলাকার মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে।  নিহতের স্বজনরা জানান, আমার ভাই কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে বসবাস করতেন। তিনি পানি-গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতেন। মাঝে মধ্যে ঢাকায় যেতেন, সেখানে হোটেলে থাকতেন। তার তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। তারা মায়ের সাথে যশোরে বসবাস করেন, সেখানের পড়াশোনা করে মেয়েরা।  এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

Comments: