খাল থেকে উদ্ধার মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, বাউফল থানায় হত্যা মামলা
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম আলম ফকির (৪৭)। মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন আগে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে বাউফল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে আলম ফকিরের মেয়ে রিপা বেগম মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন আলোকি খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি আলম গাজী ওরফে আলম ফকিরের। গত বুধবার তিনি নিখোঁজ হন। শনিবার রাতে তাঁরা মরদেহ উদ্ধারের খবর জানতে পারেন। পরে রোববার সকালে কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের সংগ্রহ করা আলামতের মধ্যে থাকা লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে মরদেহটি আলম ফকিরের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী রিপা বেগম বলেন, তাঁর বাবা বিভিন্ন এলাকায় ওরস অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারি গান পরিবেশন করতেন। তিনি তিনটি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর মা পিয়ারা বেগম প্রথম স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রীও তাঁদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তবে তাঁর বাবা তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে আলোকি খালসংলগ্ন দাশপাড়া এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই গত বুধবার তিনি নিখোঁজ হন।
কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুজ্জামান সরদার জানান, মরদেহের পোশাক ও শারীরিক গঠনের বিবরণ মিলিয়ে পরিবারের সদস্যরা আলম ফকিরকে শনাক্ত করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা সরওয়ার আলম সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। মরদেহটি পানিতে ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে শরীরের সঙ্গে প্রায় ১৭টি ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করে। হত্যা মামলাটির তদন্ত করবে বাউফল থানা-পুলিশ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।