• ঢাকা
  • রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১

Advertise your products here

  1. রাজনীতি

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় ভারতের চেয়ে দ্বিগুণ কেন?


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৪৮ পিএম
পারমাণবিক_বিদ্যুৎ_প্রকল্পের_ব্যয়_ভারতের_চেয়ে_দ্বিগুণ_কেন
ফাইল ফুটেজ

বাংলাদেশের মত জনঘনত্বপূর্ণ একটি দেশের জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প অপরিণামদর্শীতার একটি জলন্ত উদাহরণ বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, একই মডেলের ২০০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় ভারতে তামিলনাড়ুর কুদামকুলীনে ৬.৭ বিলিয়ন ডলারে সম্পন্ন হলেও দ্বিগুণেরও বেশি কেন একই কোম্পানির রূপপুর প্রকল্পের ব্যায়? দুর্নীতির একটি জ্বলন্ত প্রমাণ এটি মূলত সরকারের অব্যাহত। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মিডিয়া সেল কর্তৃক আয়োজিত এসব কথা বলেন এক অনুষ্ঠানে তিনি।

মঈন খান বলেন, কতটা মূল্য দিয়ে আমরা ২৪০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পাচ্ছি, কোন কোন যুক্তির ভিত্তিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলো, সেটি একটি ব্যপক গবেষণার বিষয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প যেন বাংলাদেশের দুঃশাসন ও দুর্নীতির এক জাইগান্টিক মনুমেন্ট। বিগত সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতাধীন আবাসন ও বালিশকাণ্ডের অবিশ্বাস্য দুর্নীতিই মূল প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপকতা প্রমাণ করে।

তিনি বলেন, ১২.৮০ বিলিয়ন ডলারের প্রাক্কলিত এই প্রকল্প নিশ্চিতভাবে ২০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে। যার ১২ বিলিয়নের উপর রাশিয়ার সাপ্লাই ক্রেডিট। আওয়ামী অর্থনৈতিক দুঃশাসনের অন্যতম মাধ্যম হলো- এই সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিট। কোন অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে এই ব্যয়ের কিভাবে এই প্রকল্পে বিপুল ব্যয় নিরূপণ হলো সেটা কখনোই জনসম্মুখে আসেনি বাণিজ্যিক কার্যকরীতা নিরুপণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোন যথার্থ বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ছাড়াই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এখানে দুই ধরনের বিপর্যয় স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক, অর্থনৈতিক বিপর্যয়- যার অন্তরালে রয়েছে সীমাহীন দুর্নীতি এবং দুই, হলো ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা। এনার্জি সিকিউরিটির নামে মেগা দুর্নীতির ক্ষেত্র প্রস্তুত করার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি এবং জীববৈচিত্র্যকে চূড়ান্ত হুমকির সম্মুখীন করার জন্য, অপরিনামদর্শী শেখ হাসিনার সরকারকে একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে, বাংলাদেশ কখনো তাকে ক্ষমা করবে না।

সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশে এই প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। তার অন্যতম হচ্ছে আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব, কৃষিখাত ও নদ-নদীর উপর এর প্রভাব। পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকরী দেশগুলোর বিশ্বের প্রধান কোনটিরই জনসংখ্যার ঘনত্ব যেখানে বাংলাদেশের সংখ্যা ১১১৫.৬২ জন, সেখানে ৬৫০ জনের বেশি নয় প্রতি বর্গকিলোমিটারে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে শতবার বিশ্লেষণ এরূপ জনঘনত্বের একটি দেশে ব্যয়বহুল অপরিহার্য ছিলো। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত এরূপ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরাসরি বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, যে ইউরোনিয়াম ব্যবহার করা হবে এই প্রকল্পে জ্বালানি হিসাবে তার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মানবস্বাস্থ্য এবং মারাত্মক চ্যালেঞ্জ পরিবেশের জন্য। এর পাশাপাশি প্রতি মিনিটে ৪ লাখ ৫৫ হাজার গ্যালন পানি প্রয়োজন হবে এক-একটি চুল্লির অভ্যন্তর শীতল করতে। পদ্মা নদী অথবা ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে যা সংগ্রহ করা হবে মূলত। উত্তপ্ত অবস্থায় আবার ধীর স্রোতের পদ্মা নদীতেই ফেলা হবে চুল্লি থেকে নির্গত ৯৯ শতাংশ পানি। স্মরণযোগ্য যে, পদ্মা নদী আমাদের দেশের বৃহত্তম জলাধার ও মৎস্য ভান্ডার।

 

পুনরুত্থান/সালেম/সাকিব/এসআরf

দৈনিক পুনরুত্থান / নিজস্ব প্রতিবেদক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন