• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. বিনোদন

৪০-এ দীপিকা: গ্ল্যামার ও মাতৃত্বের মিশেলে এক নতুন পথচলা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৪০ পিএম
৪০-এ দীপিকা: গ্ল্যামার ও মাতৃত্বের মিশেলে এক নতুন পথচলা
দীপিকা পাড়ুকোন

বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী এবং গ্লোবাল আইকন দীপিকা পাড়ুকোনের আজ ৪০তম জন্মদিন। ১৯৮৬ সালের ৫ জানুয়ারি ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া এই শিশুটি চার দশক পর আজ কেবল একজন সফল অভিনেত্রীই নন, বরং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় নারীর আত্মবিশ্বাস ও সাফল্যের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

তাঁর এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগী এবং সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। ডেনমার্ক থেকে শুরু হওয়া তাঁর জীবনের এই যাত্রা আজ তাঁকে বিশ্বমঞ্চের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন যে মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব।

জীবনের এই বিশেষ ৪০তম বসন্তটি দীপিকার জন্য অনেকটা আলাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক বছর ধরে দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিং যে ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ ও রাজকীয় উদযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন, ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোনো বড় পার্টি বা কোলাহলের বদলে স্বামী রণবীর সিং এবং তাঁদের ছোট সন্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের এক শান্ত পরিবেশে জন্মদিনটি কাটাচ্ছেন তিনি।

মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার পর এটিই দীপিকার সবচেয়ে বড় মাইলফলক জন্মদিন, তাই জৌলুসের চেয়ে একান্ত পারিবারিক সময়কেই তিনি সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন। নিউ ইয়র্কের এই নির্জনতা যেন তাঁর নতুন জীবনের পূর্ণতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।

জন্মদিনের মূল উদযাপন ব্যক্তিগত পরিসরে হলেও নিজের ভক্তদের কথা একদমই ভুলে যাননি এই অভিনেত্রী। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মুম্বাইয়ের একটি মিলনায়তনে তিনি ভক্তদের জন্য এক বিশেষ 'থ্যাঙ্ক ইউ' ইভেন্টের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে শত শত ভক্তের সঙ্গে কেক কাটা, খোলামেলা আড্ডা এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ভাগ করে নেন তিনি।

ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছিলেন যে, তাঁর এই দীর্ঘ ৪০ বছরের যাত্রায় যারা ছায়ার মতো পাশে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে এই আনন্দটুকু ভাগ করে নেওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। ভক্তদের প্রতি তাঁর এই অকৃত্রিম টানই তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে।

২০০৭ সালে 'ওম শান্তি ওম' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে রাজকীয় অভিষেক থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীপিকা পাড়ুকোনের ক্যারিয়ার যেন একটি রূপকথার মতো। গত বছরেও তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে যুক্ত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'লাইভ লাভ লাফ' ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি সমাজের অন্ধকার দূর করার যে নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা এই ৪০ বছর বয়সে এসে আরও পরিণত ও শক্তিশালী হয়েছে।

কেবল প্রকাশ পাড়ুকোনের কন্যা হিসেবে নয়, বরং নিজের অদম্য যোগ্যতায় 'পিকু', 'পদ্মাবতী' বা 'মাস্তানি'র মতো অমর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।

বিশ্বখ্যাত লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে হোক বা অস্কারের জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চে উপস্থাপিকা হিসেবে—দীপিকা বারবার প্রমাণ করেছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ কেবল সাধারণ শুভেচ্ছাবার্তাই নয়, বরং একজন সফল ও আত্মপ্রত্যয়ী নারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন ঘটছে। ভক্তদের কামনায় এখন একটাই সুর—জীবনের ৪০তম এই ধাপে পৌঁছে দীপিকা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে রূপালি পর্দায় ফিরে আসেন এবং সমাজের মূলধারায় ইতিবাচক পরিবর্তনের কাজগুলো আরও শক্তিশালীভাবে চালিয়ে যান। দীপিকার এই নতুন পথচলা আগামীর নারী প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

দৈনিক পুনরুত্থান / বিনোদন ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন