• ঢাকা
  • রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Advertise your products here

  1. জাতীয়

পুলিশ সুপার ছেলের আয়ে বাবার সম্পদের পাহাড়


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৮ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:০২ পিএম
পুলিশ সুপার ছেলের আয়ে বাবার সম্পদের পাহাড়
ফাইল ফুটেজ

জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২০ সাল থেকে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান করে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তার আয়কর নথি কিংবা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের নথিপত্র ঠিকঠাক। এমনকি তার স্ত্রীর নামেও মামলা দায়ের করার মতো সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেল না। তবে ছেলের সূত্র ধরে বাবা আবুল কাশেমের সম্পদের খোঁজ নিতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তাদের চক্ষু চড়কগাছ।

বাবার নামে পাওয়া গেল দিনাজপুরে জেলার সবচেয়ে বিলাসবহুল ছয় তলার দুটি হোটেল ‘ডায়মন্ড এ’ ও ‘ডায়মন্ড বি’। এ ছাড়াও মেলে কাসেম ও রাসেল নামের দুটি অটো রাইস মিলসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ। দালিলিক নথিপত্রে যার মূল্য সাড়ে ১০ কোটি টাকা হলেও বাস্তবে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য অর্ধশত কোটি টাকার বেশি। অথচ যার বিপরীতে নেই আয়ের যথাযথ বৈধ উৎস।

অর্থাৎ দুদকের সন্দেহ শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো। ছেলের অবৈধ আয়ে বাবা একের পর এক সম্পদের মালিক হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বাবা আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮২ লাখ ১২ হাজার ৩৫৪ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৬ কোটি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৩৩৩ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

যে কারণে কমিশনের অনুমোদনক্রমে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে বুধবার (৮ মে) সংস্থাটির দিনাজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক নূরে আলম বাদী হ‌য়ে মামলা করেছেন। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এক‌টি ঊর্ধ্বতন সূত্র মামলার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে। ফলে ছেলে ছাড় পেলেও মামলায় ফাঁসলেন বাবা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, দুদকের অনুসন্ধানকালে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আবুল কাশেম দুদককে ৭ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮০ টাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেন। কিন্তু যাচাইকালে তার নামে মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৪ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া যায়। এসময় পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বাবা ২ কোটি ৮২ লাখ ১২ হাজার ৩৫৪ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পায় দুদক। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, আবুল কাশেমের দেওয়া তথ্যানুসারে ৭৯ লাখ ৬ হাজার ৬৭৬ টাকা দায়-দেনা রয়েছে। অন্যদিকে পারিবারিক ব্যয় ও কর পরিশোধ করেছেন ১ কোটি ৩০ লাখ ৮৯ হাজার ৩০৮ টাকা। ঋণ ও ব্যয়ের হিসাব আমলে নিলে আবুল কাশেমের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৬ টাকা। কিন্তু এর বিপরীতে তার আয়ের পরিমাণ ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার ২৩৩ টাকা। অর্থাৎ পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের বাবা আবুল কাশেম ৬ কো‌টি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৩৩৩ টাকার অবৈধ সম্পদ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা ক‌রা হয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / স্টাফ রিপোর্টার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন