• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. আর্ন্তজাতিক

ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল দেবে : ট্রাম্প


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৩৬ পিএম
ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল দেবে : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল (৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল) তেল দেবে। সম্প্রতি এক চমকপ্রদ মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতা হারানোর পর এ কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্প জানান, এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে। তেল বিক্রির টাকা তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং তা ভেনেজুয়েলার জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই কথা জানিয়েছেন। 

তিনি আরো বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্প পুরোপুরি চালু হবে এবং সেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার আগের মতো তেল উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার লাগতে পারে এবং এতে প্রায় এক দশক সময়ও লাগতে পারে।

ভেনেজুয়েলার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

এর পরেই  ট্রাম্পের এই মন্তব্য সোমনে এসেছে। এদিকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে।

সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা যদি আবার বড় তেল উৎপাদক দেশে পরিণত হয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো হবে। কারণ এতে তেলের দাম কম থাকবে।

’ বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগী সিবিএস জানায়, এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় তেল কম্পানির প্রতিনিধিরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। 

তবে বিশ্লেষকরা বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বা দামের ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন না। তাদের মতে, তেল কম্পানিগুলো আগে নিশ্চিত হতে চাইবে যে, ভেনেজুয়েলায় একটি স্থিতিশীল সরকার রয়েছে। আর বিনিয়োগ শুরু হলেও সেখান থেকে ফল পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো ঠিক করতে পারবে।

ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে, যা বিশ্বে প্রমাণিত তেল মজুতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তবে ২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে দেশটির তেল উৎপাদন ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, ভেনেজুয়েলার এই বিপুল তেল মজুত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন বাড়াতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোর জন্য তা খুব ব্যয়বহুল হবে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল ভারী ধরনের হওয়ায় তা পরিশোধন করাও তুলনামূলক কঠিন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র একটি তেল কোম্পানি, ‘শেভরন’ ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে। ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শেভরনের মুখপাত্র বিল টুরেন বলেন, কম্পানিটি তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং নিজেদের সম্পদের সুরক্ষার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শেভরন সব আইন ও নিয়মকানুন মেনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, কনোকোফিলিপস নামে আরেকটি বড় মার্কিন তেল কম্পানি, যারা এখন আর ভেনেজুয়েলায় কাজ করে না, তারা জানিয়েছে, দেশটির পরিস্থিতি এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বা ব্যবসা নিয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না বলে জানায় কম্পানিটি। এদিকে আরেক মার্কিন তেল কম্পানি এক্সন এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করার সময় বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলা একপক্ষে আমেরিকার তেল চুরি করেছে।’ তার ঘনিষ্ঠ সহকারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একই বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল কখনোই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় ছিল না। ভেনেজুয়েলাতে একসময় কিছু আমেরিকান তেল কম্পানি তেল উত্তোলন করেছে লাইসেন্স নিয়ে, কিন্তু সেই তেল দেশের নিজস্ব সম্পদ হিসেবেই ছিল। 

ভেনেজুয়েলা ১৯৭৬ সালে তার তেল শিল্প সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল এবং বিদেশি কম্পানিগুলোর অধিকার তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে ২০০৭ সালে তখনকার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ নেন। এই কারণে আমেরিকান কম্পানিগুলো তাদের তেল প্রকল্পগুলো হারায়। তখন অনেক কম্পানি ক্ষতিপূরণের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে এবং ২০১৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের একটি ট্রাইবুনাল কনোকোফিলিপসকে প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু ভেনেজুয়েলা সেই টাকা এখনো দেয়নি। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাই ‘ভেনেজুয়েলা আমেরিকার তেল চুরি করেছে’ —এমন দাবি খুব সরলীকরণ এবং ভুল ধারণা। তেল সবসময় ভেনেজুয়েলার নিজস্ব সম্পদ ছিল এবং আন্তর্জাতিক আইনও দেশগুলোর নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার স্বীকৃতি দেয়।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন