• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেরুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বরগুনার সংরক্ষিত মহিলা আসনে আলোচনায় মীরা খান


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:২২ পিএম;
বরগুনার সংরক্ষিত মহিলা আসনে আলোচনায় মীরা খান

বরগুনায় সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য পদে স্থানীয় এক ত্যাগী নারী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত মীরা খানকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মিরা খান দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাছাড়া, তার বাবা জাফর আলী খান আমতলী থানার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। দলের দুর্দিনে রাজপথে অবস্থান, তৃণমূল সংগঠনকে সুসংগঠিত করা এবং নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন নেতাকর্মীরা।

 

মীরা খান বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আমতলী উপজেলার সভাপতি এবং বরগুনা জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি। 

দলীয় সূত্র আরও জানায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট বা কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠেনি। এ কারণে তাকে “সৎ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব” হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেত্রীই সংরক্ষিত আসনের জন্য উপযুক্ত।

আমতলী, তালতলী ও বরগুনা বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। আমরা চাই সংরক্ষিত মহিলা এমপি হিসেবে এমন একজন আসুক, যিনি সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এলাকার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

এদিকে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা যোগ্য ও ত্যাগী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের আশা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৃণমূলের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে আমতলীর জনপ্রিয় নারী নেত্রীকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য মনোনীত করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে সামনে আনা হলে দল যেমন উপকৃত হবে, তেমনি স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মীরা খান বলেন, বরগুনা-১ আসনের বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। তাদের জীবনযাত্রার নানা সংকট, দুঃখ-দুর্দশা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র খুব কাছ থেকে দেখেছি।দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট-ব্রিজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা ব্যবস্থা ও মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। 

মনোনয়নের বিষয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মীরা খান বলেন, আমি যদি বরগুনার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে জনগণের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। একটি আধুনিক, মানবিক ও উন্নত বরগুনা গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই।

এ বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আশা, দলীয় হাইকমান্ড বরগুনার রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নারীর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।মীরা খান দলের একজন সক্রিয় কর্মী। আমাদের প্রত্যাশা দল মীরা খানের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। 

রাজনৈতিক অঙ্গনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও মীরা খানকে ঘিরে যে জন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন সময়ের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন