কিশোরী মায়ের কোলেই আপাতত থাকছে ৭ মাসের শিশু সন্তান
ঢাকার হাজারীবাগের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার সাত মাস বয়সী শিশু সন্তানকে ঘিরে আলোচিত ঘটনায় আপাতত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়। তবে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে পারিবারিক আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুনানি শেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সিনিয়র সহকারী জজ মো. সায়েম খান গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাত মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশুটি আপাতত তার মায়ের কাছেই থাকবে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, প্রচলিত আইন ও তার দুগ্ধপোষ্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী অভিভাবকত্বের বিষয়টি পারিবারিক আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।
শুনানিতে কিশোরী টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও না করার অঙ্গীকার করেছেন। এদিকে কিশোরীর পরিবার তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া, কথিত বিয়ে, যৌন নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, কিশোরীর বয়স ২০ বছর ছিল। তারা পারিবারিক আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করছেন।
এদিন সকাল থেকেই ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। আলোচিত এ ঘটনার শুনানি কেন্দ্র করে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে কিশোরী তার মা-বাবা ও সাত মাসের শিশুকে নিয়ে লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে হাজির। অন্যদিকে, উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত হিসেবে আলোচিত শাকিল মিয়া ও তার পক্ষের প্রতিনিধিরাও। শুনানি চলাকালে দুপক্ষকে আলাদাভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানানো হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় উভয় পক্ষকে কিছু সময়ের জন্য লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের একটি কক্ষে রাখা হয়। শুনানি শেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. সায়েম খান বলেন, আলোচিত এ ঘটনায় শিশুর বয়স মাত্র সাত মাস। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এমন দুগ্ধপোষ্য শিশু মায়ের সঙ্গেই থাকার অধিকারী। তাই আপাতত শিশুটি তার মা অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের হেফাজতেই থাকবে। তিনি বলেন, শুনানিতে কিশোরী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি আর টিকটক কিংবা ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করবেন না। শিশুকে নিজের কাছে রেখে তার লালন-পালনে মনোযোগ দেবেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, অভিযুক্ত শাকিল মিয়া শিশুর অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতে গার্ডিয়ানশিপ মামলা করেছেন। সে মামলায় আদালত যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, ভবিষ্যতে শিশুর স্থায়ী অভিভাবকত্ব সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
এর আগে গত ১ জুলাই ঢাকার লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন জুঁই। অভিযোগের পর অভিযুক্ত শাকিল ও তার মাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে শিশুটিকে উদ্ধারে চকবাজার থানাকে নির্দেশ দেন লিগ্যাল এইড অফিসার মো. সায়েম খান। সোমবার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। আর মঙ্গলবার দুই পক্ষকে নিয়ে শুনানি শেষে বিচারক শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।
শুনানিতে বিচারকও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রথম দিন জুঁইকে দেখে বিশ্বাসই হয়নি তার সন্তান রয়েছে। কারণ, জুঁই নিজেও তো একটি শিশু। জুঁইয়ের পক্ষের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার হওয়ার পাশাপাশি সন্তান জন্মের পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শাকিলের দাবি, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিল। সন্তানকে রেখে সে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। পরে শিশুর অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলাও করেন তিনি।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, শিশুটিকে যেহেতু আদালতে আনা হয়েছে, মানবিক দিক বিবেচনায় আপাতত মায়ের কাছেই থাকবে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: