ফরিদপুর-১ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে ৮প্রার্থী, প্রচারণায় কে কতটুকু এগিয়ে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনে ভোটের মাঠে লড়াই করছেন ৮ প্রার্থী।
এই ৮ প্রার্থীকে চূড়ান্ত হিসেবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষণা করেছেন ।
তাঁরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সহ-সভাপতি খোন্দকার নাসিরুল ইসলাম (নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, ১০দলীয় জোট সমর্থিত ড.মো. ইলিয়াস মোল্লা (নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী মৃন্ময় কান্তি দাস (নির্বাচনী প্রতীক রকেট), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদ খাঁন (নির্বাচনী প্রতীক লাঙ্গল)।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য অব্যহতি প্রাপ্ত সাবেক জেলা আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান ঠাকুর অপু (নির্বাচনী প্রতীক হরিণ), মো: আব্দুর রহমান জিকো (নির্বাচনী প্রতীক উট), মো. আবুল বাসার খাঁন ( নির্বাচনী প্রতীক ফুটবল) এবং মো. গোলাম কবির মিয়া (তিনি পেয়েছেন মোটর সাইকেল)।
এই আসন থেকে সর্বমোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন। অবশেষে নানা চড়াই-উতরাই পার করে ৮ প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন।
ফরিদপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৫লক্ষ ৭০২জন; এর মধ্যে আলফাডাঙ্গায় ১লক্ষ ৩হাজার ৭৯০জন, বোয়ালমারীতে ১লক্ষ ৮৪ হাজা ১৪২জন এবং মধুখালীতে ২লক্ষ ১৭ হাজার ৭৭০জন।
ইতোমধ্যে সারা দেশের ন্যায় ফরিদপুর-১ আসনেও নির্বাচনী জ্বরে আক্রান্ত ভোটাররা। নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে ভোটারদের মাঝে। হাটে-মাঠে, চায়ের দোকানে চলছে নির্বাচনী আলাপ চারিতা। কে কতটুকু প্রচারণায় এগিয়ে, কোন প্রার্থী কোন অঞ্চলে কত ভোট পাবেন তা নিয়ে তর্ক-বিতর্কও কম হচ্ছে না। ভোটারদের অনেকেই এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাই কোন প্রতীকে ভোট দেবেন। তবে বেশীর ভাগ ভোটার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, বাছাই করে নিয়েছন তাদের কাঙ্খিত প্রার্থীকে ।
সাধারণ কয়েক জন ভোটারকে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রচারণায় এগিয়ে ছিলো। তাঁদের দু'জনের পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল নির্বাচনী এলাকা। তাঁরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-শিল্পপতি মো: আবুল বাসার খাঁন এবং উদিয়মান যুবনেতা হাসিবুর রহমান ঠাকুর অপু। তফসিল ঘোষণার পর আবুল বাসার খাঁনের প্রচারণা আরো বেগবান হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
অপরদিকে দলীয় ভাবে যাঁরা নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, জাতীয়তাবাদী কৃষকদলে সহ-সভাপতি, সাবেক এমপি খোন্দকার নাসিরুল ইসলাম। এর পরেই আবস্থান নিয়েছেন জামাত প্রার্থী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মো: ইলিয়াস মোল্লা। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুলতান আহম্মেদ খাঁনের প্রচারণার আভাস পাওয়া গেলেও অপর দলীয় প্রার্থী বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মৃন্ময় কান্তি দাসের প্রচারণা তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।
নানা প্রতিকুলতা ডিঙ্গিয়ে নির্বাচনী বৈধতা পান নাই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: আরিফুল ইসলাম দোলন । একজন জুলাই যুদ্ধার দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে কিছু অসঙ্গতি প্রমান হওয়ায় আদালত তাঁর প্রার্থীতা বাতিল কেরে দিয়েছে।
শিক্ষক-গভেষক তরুণ নেতৃত্ব অপু ঠাকুর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামাতের সাথে কাজ করতে অনাহা প্রকাশ করায় মুলতঃ দল থেকে অব্যহতি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন অপুকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন তাঁর এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা অপুকে আরও অনেক দূরে এগিয়ে নিযে যাবে বলে তাদের ধারণা। তাঁরা বলছেন অপুর এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী এবং দূরদর্শি।
প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা, প্রবীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো: আবু জাফর স্বাস্থ্যগত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন। শোনা যাচ্ছিল তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থণ জানাবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সেটা করেন নাই। এ কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খাঁন চরমোনাই হুজিরের সমর্থন পেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন। তাছাড়া নিজ এলাকায় গড়ে তোলা শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কয়েক হাজার কর্মচারী তাঁকে একটা বাড়তি সুবিধা দেবে। এছাড়া এই ব্যক্তি ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতে খড়ি হলেও দীর্ঘ দিন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বাইরে থাকা এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুকূলে আওয়ামী ভোটারদের সুদৃষ্টি থাকবে বলেই অনেকে মনে করছেন।
সম্প্রতি দুইটি দলের দুই প্রধান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের প্রধান ডা: শফিকুর রহমান ফরিদপুর এবং বোয়ালমারীতে দুইটি নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ”আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি । সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ বিএনপির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। আওয়ামী ভোটটাও পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।”
বোয়ালমারী পৌর জামায়াত নেতা সৈয়দ নিয়ামুল হাসান সংবাদ কর্মীদের বলেন, ”আমাদের রয়েছে বিশাল কর্মী বাহিনী । নারী-পুরুষ সকলে মিলে আমরা দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্র্থণা করছি। তিনি ৪০ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।”
উদিয়মান তরুন শিল্পপতি ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খাঁন নির্বাচনে জয়লাভ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ”ব্যবসায়ীক জীবনে শতভাগ সফলতা পেয়েছি, ইনশাল্লাহ ফরিদপুর-১ এর ভোটারদের এবং সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে নির্বাচনেও জয়লাভ করবো। তিনি আজীবন মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।”
এবার দেখার পালা, যুদ্ধের ময়দানে কার ভাগ্যে জোটে জয়ের মালা। অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত। অবশ্য এবার ফলাফল ঘোষনায় নাকি বিলম্ব হবে বলে অগ্রীম জানিয়ে দিয়েছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।
ফরিদপুর-১ আসনের নির্বাচনী ফলাফলের হিসাবে এবার জটিলতা থাকবে বলে ধারণা করছেন অনেকে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের ভোটারদের প্রতি দলীয় নির্দেশনা যাই থাকুক শেষ পর্যন্ত হয়তো তাঁদের একটা অংশ ভোট দিতে যাবেন। ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধোরা সমাবেশ করে একজন দলীয় প্রার্থীকে সমর্থণ দিয়েছেন। অধিকাংশ মানুষের ধারণা এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ভোট হলে ত্রি-মুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরিফুর রহমান দোলন মাঠে না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খাঁনের দিকে মানুষ ঝুকে পড়ছে বলে অনেকে মনে করছেন। সে কারণে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন ভাবে ত্রি-মুখি যুদ্ধে রুপ নিতে যাচ্ছে, এমনটিই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। আলফাডাঙ্গাতে তিনি একটা দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
এখনও বেশ কয়েকদিন বাকী। আওয়ামীলীগের ঘাটি বলে পরিচিত ফরিদপুর-১ আসনটি, আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতিতে দেখা যাক শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা কার কপালে জোটে।
দৈনিক পুনরুত্থান / মিজান উর রহমান
- বিষয়:
- ফরিদপুর-১* আসনে,নির্বাচনী
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: