• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. অপরাধ

জমি ক্রয়ই কাল হলো ব্যবসায়ী তপনের


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৩৯ পিএম
জমি ক্রয়ই কাল হলো ব্যবসায়ী তপনের

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের রূপাপাত ইউনিয়নের মোড়া গ্রামের তরুণ সার ব্যবসায়ী তপন কুমার বিশ্বাস ব্যবসা বড়ো করার উদ্দেশ্যে একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম মোল্যার (৫০) নিকট থেকে মোড়া বাজারের পাশে রাস্তার সাথে চার শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি বিক্রি বাবদ রফিকুল ইসলাম ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয় তপনের নিকট থেকে।  বিভিন্ন সময় জমি লিখে দেওয়ার কথা বললেও রফিক তালবাহানা শুরু করে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে জমি লিখে দেওয়া অথবা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন তপন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকুল ইসলাম তপনকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। হুমকিতে ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তপন কুমার বিশ্বাস। তাকে দ্রুত আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় তপনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮ টার দিকে তপন মারা যান। বুধবার সকালে তপনের লাশ এনে এলাকাবাসী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে রাখে এবং প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করতে থাকে। মৃত্যুর খবর শুনেই রফিকুল ইসলাম পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ডহরনগর ফাঁড়ি পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেনও উপস্থিত হন। খবর পেয়ে পেয়ে সেখানে যান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা। সঞ্জয় সাহার মধ্যস্থতায় উভয় পরিবার একটি আপোষ মিমাংসায় পৌঁছায় এবং তপনের স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকার ব্যাংক চেক দেন রফিকুল ইসলামের পরিবার। এক সপ্তাহের মধ্যে জমি লিখে দিয়ে চেক ফেরত নিবে রফিকুল ইসলাম।

তপন কুমার বিশ্বাসের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সনজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন টাকা জমি লিখে না দিয়ে ঘুরাতে থাকে। টাকা ফেরত চাইলে রফিক আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। হুমকিতে আমার ছেলে হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। উভয় পরিবারের মধ্যে আপোষ মিমাংসায় ছেলের লাশের সৎকার করা হয়। 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা বলেন, একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে একটা আপোষ মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। 

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে একটি আপোষ মিমাংসা হয়েছে। কোন অভিযোগ না থাকায় আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

 

দৈনিক পুনরুত্থান / মিজান উর রহমান 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন