চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি, ৪ শ্রমিক দল নেতাকে স্ট্যান্ড রিলিজ তদন্ত কমিটি
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ড নামে বিদেশি কোম্পানিকে লিজ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে শ্রমিক দল আহুত কর্মবিরতিতে যোগ দেয়ায় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদকসহ বন্দরের চার কর্মচারীকে স্ট্রান্ড রিলিজ করা হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ও এর দায় দায়িত্ব নিরূপণে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবার সন্ধ্যায় বন্দরের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। এনসিটি বিদেশীদের ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী চার কর্মচারীকে ঢাকার কেরানিগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়।
বদলি করা চারজন হলেন- অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবীর, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহীম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উচ্চ হিসাব সহকারী আনোয়ারুল আজীম এবং প্রকৌশল বিভাগের খালাসি ফরিদুর রহমান।
এদের মধ্যে ইব্রাহিম খোকন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক, হুমায়ুন কবীর একই সংগঠনের প্রচার সম্পাদক, আনোয়ারুল আজীম ও ফরিদুর রহমান বন্দর শ্রমিকদলের সদস্য। এরা সকলেই এনসিটি বিদেশীদের দেয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের ঢাকার কেরানিগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বদলিকৃত পদে রোববার যোগদান করতে বলা হয়েছে। এনসিটি আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওর্য়াল্ডকে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল। একই দাবিতে শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপারেশনাল কর্মবিরতি পালন করা হয়।
শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়। রোববারও সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
বন্দর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খোকন বদলির নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অনতিবিলম্বে তাৎক্ষণিক এ বদলির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। আন্দোলনের কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এ বদলির সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। বন্দরের উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের উচিত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা।
তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিভাগে আন্দোলনের সাথে যুক্ত কর্মীদের তালিকা করছে বলে সংবাদ আছে। এটা কারও জন্য কল্যাণকর হবে না। এ ধরণের প্রক্রিয়া চলতে থাকলে রোববার কর্মবিরতি শেষে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহীম খোকন বলেন, দেশ ও বন্দরের স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে, ভৌগলিক নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এনসিটি বিদেশীদের দেয়ার বিপক্ষে। কোন দেশে বন্দরের সবগুলো টার্মিনাল বিদেশী অপারেটরকে দেয়া হয় না। এর বিরুদ্ধে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে কর্তৃপক্ষ বদলির মতো উপায় বেছে নিয়েছে। তবে বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলন, বদলির এ সিদ্ধান্ত নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। আন্দোলনের কারণে এ বদলি নয়।
তদন্ত কমিটি এদিকে কর্মবিরতির ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বন্দর চেয়ারম্যানের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর মো. আজহারুল ইসলাম। সদস্যরা হলেন- চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মো. তাফসির উদ্দিন ভূঞা, বন্দরের সিনিয়র ড্রেজিং মাস্টার লে. মাস্টার আসিক মাহমুদ, উপ-পরিচালক (নিরাপত্তা) মেজর মো. আনিস-উজ-জামান, ডিটিএম মিসেস হাসিনা আরজু ও চীফ পারসোনাল অফিসার চট্টগ্রাম বন্দর।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুতথান ডেস্ক
- বিষয়:
- চট্টগ্রাম* বন্দরে,কর্মবিরতি
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: