• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ ফেরুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

দিনাজপুর–৪ আসনে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মুখোমুখি লড়াই


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৩ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৪৫ পিএম
দিনাজপুর–৪ আসনে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মুখোমুখি লড়াই

নুর-আমিন, খানসামা, (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দিনাজপুর–৪ আসন (খানসামা ও চিরিরবন্দর) এখন সরগরম। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের মুখে মুখে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, সভা-সমাবেশে বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্যে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। তবে ভোটারদের মনে একটাই প্রশ্ন এত প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন হবে?

প্রার্থীরা তাঁদের প্রচারণায় এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরে উন্নয়নের নানা আশ্বাস দিচ্ছেন। কোথাও বলা হচ্ছে সড়ক সংস্কার, কোথাও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, আবার কোথাও কর্মসংস্থান ও শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা। তবে কৃষিপ্রধান এই আসনের মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা কৃষিখাত ঘিরেই। সেচব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, কৃষকদের সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষক ও ভোটাররা।

এ বিষয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের খানসামা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আরিফুর ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নই কাজে বিশ্বাসী, পূর্বের সংসদ সদস্যরা অনেক আশ্বাস দিয়েছিলো জনগণের ভাগ্য বদলে কাজ করবে শিল্পায়ন হবে,বেকারত্ব দূর হবে, কিন্তু আমরা তেমন ফলপ্রসূ ফলাফল পাইনি তাই নির্বাচনে মূখরচক প্রতিশ্রুতি নয় আমরা চাই গুণগত পরিবর্তন এর মাধ্যমে তাদের কমিটমেন্ট বজায় রেখে জনকল্যাণে কাজ করবে  সমউন্নয়ন এ এলাকাকে এগিয়ে নিবে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান আন্তরিকতার সহিত কাজ করবে।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান মিয়া বলেন, জাতীয় পার্যায়ে এবং বিএনপির  পক্ষ থেকে যে ৮ টি পরিকল্পনার নির্দেশনা আছে তা বাস্তবায় হবে এবং  আমি নির্বাচিত হলে (খানসামা& চিরিরবন্দরের), রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দির, ব্রীজ কালভার্ট,এবং চিরিরবন্দরে একটি টেকনিক্যাল কলেজ করারও আশ্বাস দেন তিনি, তিনি আরও বলেন আগে প্রতিশ্রুতি   দিয়ে তো লাভ হবে না পরিবেশ অনুকূলে থাকলে কাজ করে বাস্তবে রুপ দিতে চান বলে মন্তব্য করেন তিনি । 

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর দিনাজপুর-৪ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি নির্বাচিত হলে বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য সরকারি আরআইএন  প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোক্তা গড়ে তুলবো এবং বেকারত্ব কমাবো। কওমি, হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্রদের উপবৃত্তি, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং ভিক্ষা বৃত্তি দূরীকরণের জন্য সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও চিরিরবন্দর উপজেলার সাবেক  উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন মোল্লা বলেন,আমরা কোনো  প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না। উন্নয়ন করা মূলত সংসদ সদস্যদের  কাজ নয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবেন,  উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান উন্নয়নের দায়িত্ব মূলত তাদের হাতেই যাবে।  সংসদ সদস্যদের নজরদারির কারণে দেশে নানা সমস্যা ও লুটপাট হচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত এই ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা যে উন্নয়ন করব, তা হবে টেকসই উন্নয়ন। এখানে কেউ একটি বালু নিয়েও টানাটানি করতে পারবে না, দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না। আমরা নারীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করব। গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। শিশু জন্মের পর পাঁচ বছর পর্যন্ত সরকারি খরচে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণদের জন্যও ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) 

খানসামা উপজেলা শাখার   যুগ্ম সমন্বন্বয়কারী জাহিদুর ইসলাম রাফি বলেন, জামায়াতের ৬০ ভাগ এবং  বিএনপির ৩৫ স্বজনপ্রীতি হবে অনেকাংশেই বঞ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

খানসামা এবং চিরিরবন্দরের একাধিক স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিশ্রুতি নতুন কিছু নয়। প্রতিটি নির্বাচনেই এমন আশ্বাস শোনা যায়। চিরিরবন্দর উপজেলার আরমান আলী নামে এক ভোটার বলেন, ভোটের আগে সবাই আসে, কথা দেয়। ভোটের পরে আর দেখা যায় না। এবার আমরা কাজের হিসাব দেখে ভোট দিতে চাই।

খানসামা উপজেলার আনোয়ারুল ইসলাম নামে এক তরুণ ভোটার জানান, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মসংস্থান কৃষি প্রধান এলাকায় নেই কর্মসংস্হান  যে প্রার্থী বাস্তবভাবে চাকরি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে, তাকেই আমরা সমর্থন দেব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিনাজপুর–৪ আসনে এবারের নির্বাচন হবে প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতার লড়াই। কে কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করবে ফলাফল। সব মিলিয়ে মুখের লড়াইয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। তবে ভোটাররা এখন আর শুধু কথা শুনতে রাজি নয় তাঁরা চান বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতি ও জবাবদিহির রাজনীতি। 

 

 

 

দৈনিক পুনরুত্থান / নুর-আমিন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন