• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

আমতলীতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ: পৌর আইন ও বিএনবিসি অমান্যের অভিযোগ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:১৭ পিএম
আমতলীতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ: পৌর আইন ও বিএনবিসি অমান্যের অভিযোগ

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)–২০২০ এবং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পৌর এলাকায় ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে বরগুনার আমতলী পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে এসব আইন ও বিধি উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে।

 

অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পনাহীন ও গা-ঘেঁষাঘেঁষি ভবন নির্মাণের ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নাগরিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

 

বিএনবিসি–২০২০ অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের সময় জমির অন্তত ৩০ শতাংশ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক। এতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে ভবনের চারপাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে খোলা জায়গা রাখতে হয়—সামনে ৫ থেকে ১০ ফুট, পেছনে ৪ থেকে ৮ ফুট এবং দুই পাশে ৩ থেকে ৫ ফুট।

 

কিন্তু বাস্তবে আমতলী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এসব বিধান মানা হচ্ছে না। অনেক স্থানে ড্রেনের ওপর দোকান ও স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। কোথাও আবার রাস্তার জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

 

পৌর শহরের আল হেলাল মোড়ে (পোস্ট অফিসের বিপরীতে) অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর হোসেন আলী বর্তমানে একটি ভবন নির্মাণ করতেছেন। যা পৌরসভার আইন মেনে তৈরী করা হচ্ছে না। এছাড়াও পৌরসভার ভিতর একাধিক বিল্ডিং এর কাজ চলমান আছে। 

স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত রাখা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ। তবে এসব দায়িত্ব পালনে আমতলী পৌরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

বিগত কয়েক বছরে অনুমোদনহীন স্থাপনা বেড়ে যাওয়ায় পৌর এলাকার বহু সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিয়মিত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির সময় ঘরবাড়ি ও রাস্তায় পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

আমতলী পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার জনসংখ্যার এই পৌরসভায় নিবন্ধিত হোল্ডিং রয়েছে ৭ হাজার ৪১টি। এর মধ্যে পাকা ভবনের সংখ্যা প্রায় ৯০০টি। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীন ভবন নির্মাণ একদিকে নগরবাসীর জীবনঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে শহরের নান্দনিক সৌন্দর্যও ধ্বংস করছে। দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে পৌরবাসীকে চরম মূল্য দিতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পৌর নাগরিক অভিযোগ করে বলেন, পৌর প্রকৌশল বিভাগ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিগত মেয়রদের সময়ে ঘুষের বিনিময়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং নির্মাণ তদারকিতে ছিল চরম গাফিলতি।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা বলেন, ড্রেনের মুখ বন্ধ করে অনেকেই বিল্ডিং তুলেছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়, কিন্তু পৌরসভা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

দোকান মালিক সেলিম হোসেন বলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থাপনা গড়ে তুলছে, অথচ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

মানবাধিকার কর্মী জোসেফ মাহতাব বলেন, টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য বিএনবিসি–২০২০ ও পৌর আইন, ২০০৯ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সংকীর্ণ রাস্তা শুধু উন্নয়নের অন্তরায় নয়, জীবন রক্ষার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি।

এ বিষয়ে আমতলী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার আইন অমান্য করে  যদি কেউ কোন বিল্ডিং  স্থাপন করে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সম্প্রতি আল হেলাল মোড়ে হোসেন আলী নামে এক ভদ্রলোক একটি বিল্ডিং নির্মাণ করতেছেন। আমরা অভিযোগ পেয়েছি যদি পৌরসভার আইন লঙ্ঘন করে বিল্ডিং  করা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

আমতলী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। আমি আমতলীতে যোগদান করার  পরে এখন পর্যন্ত নতুন কোন অনুমোদন দেইনি। আগে কি হয়েছে সেটা আমি বলতে পারব না।বিষয়টা আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখব এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

সচেতন নাগরিকদের মতে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড–২০২০ ও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আমতলী পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত হবে, সড়কগুলো জরুরি সেবার উপযোগী হবে এবং নাগরিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন