সবুজ স্বপ্ন ভেঙে চুরমার: খানসামা উপজেলা ভবনের ছাদ বাগানে ধ্বংসস্তূপে পরিনত
নুর-আমিন, খানসামা,দিনাজপুর,প্রতিনিধি :
কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল স্বপ্নের এক ছাদ বাগান। উদ্দেশ্য ছিল সবুজায়ন, পরিবেশ রক্ষা আর প্রশাসনিক ভবনে এক অনন্য সৌন্দর্য যোগ করা। অথচ আজ সেই বাগানই পরিণত হয়েছেমরুভূমিতে! দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের ছাদে থাকা প্রায় দুই শতাধিক ফলদ গাছ এখন অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার বলি।
আম, লিচু, আপেল, পেয়ারা, মিষ্টি জলপাই, সফেদা, শরীফা, মিষ্টি তেঁতুল, লটকন, কামরাঙা, জাম্বুরা, ড্রাগন ফল, কদবেল, তাইওয়ান কুল, লেবু, কমলা, মাল্টা, করমচা, চেরি, জামরুল, ডালিম, বেল, ক্যাপসিকাম, আমড়াসহ নানা প্রজাতির ফলদ গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছিল পুরো ছাদ। একসময় যা ছিল সবুজের সমারোহ, আজ তা শুকনো ডালপালা আর ভাঙা টবের স্তূপ!
সরেজমিনে দেখা গেছে—অধিকাংশ গাছ মরে গেছে, অনেক টব ফেটে চৌচির, কোথাও নেই নিয়মিত সেচের চিহ্ন। প্রশ্ন উঠেছে—কয়েক লক্ষ টাকার প্রকল্পের এমন করুণ পরিণতির দায় নেবে কে?
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন,আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই ছাদ বাগান মরুভূমির মতো পড়ে আছে। গাছগুলো অনেক পুরনো হয়ে গেছে। টবের ভেতরে মাটির চেয়ে শিকড় বেশি হয়ে গেছে, এ কারণেই গাছগুলো নষ্ট হয়েছে। এখন নতুন করে গাছ লাগাতে হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—গাছ পুরনো হলে কি তা পরিচর্যা করা যায় না? নিয়মিত মাটি পরিবর্তন, ছাঁটাই, সার প্রয়োগ ও সেচের ব্যবস্থা থাকলে কি এমন অবস্থা হতো? সরকারি অর্থে গড়ে ওঠা একটি উদ্যোগ এভাবে নষ্ট হওয়া কি শুধু ‘পুরনো গাছের’ দোষে?
সচেতন মহল বলছে, পরিকল্পনা নেওয়া সহজ, কিন্তু টেকসই রক্ষণাবেক্ষণই বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্বে অবহেলা থাকলে এমন সবুজ প্রকল্পও ধুলোয় মিশে যায়। কয়েক লক্ষ টাকার এই ছাদ বাগান আজ তারই বাস্তব উদাহরণ।
এখন দেখার বিষয়—নতুন করে গাছ লাগানোর ঘোষণা বাস্তবে রূপ নেয় কিনা, নাকি আবারও কাগুজে প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে সবুজ স্বপ্ন।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- সবুজ* স্বপ্ন,ভেঙেচুরমার
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: