• ঢাকা
  • বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ভিএআর ও রেফারি বিতর্ক: আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ১ কোটির বেশি স্বাক্ষর


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৩৫ পিএম;
ভিএআর ও রেফারি বিতর্ক: আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ১ কোটির বেশি স্বাক্ষর

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বহিষ্কারের দাবিতে করা একটি অনলাইন পিটিশনে ১ কোটির বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। শেষ ষোলোতে (রাউন্ড অব ১৬) মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের পর এই পিটিশন ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

argentinaout.com-এ হোস্ট করা ওই পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে, আর্জেন্টিনা এবং দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসি রেফারিদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের সুবিধা পাচ্ছেন। পিটিশনে দাবি করা হয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ফিফা এবং ম্যাচ কর্মকর্তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছেন।

পিটিশনে বলা হয়েছে, “এটা স্পষ্ট যে ফিফা এবং রেফারিরা লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। বিজয়ী যদি আগেই নির্ধারিত থাকে, তাহলে বিশ্বের বাকি দলগুলো কেন প্রতিযোগিতা করবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করুন এবং অন্য দলগুলোকে ন্যায্য সুযোগ দিন।”

বিতর্কিত রেফারিং

মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলে নাটকীয় জয়ের পর পিটিশনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচে রেফারির দুটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

মিসরের তৃতীয় গোলটি দীর্ঘক্ষণ ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। কর্মকর্তারা আক্রমণ গড়ে ওঠার আগের একটি ফাউল শনাক্ত করায় গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।

অন্যদিকে, যোগ করা সময়ে (স্টপেজ টাইম) আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি ভিএআর পর্যালোচনা ছাড়াই বৈধ ঘোষণা করা হয়। মিসরের দাবি, গোল হওয়ার আগে তাদের তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহ ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। তাদের মতে, ওই ঘটনায় আর্জেন্টিনার পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল হওয়ার পরিবর্তে মিসরের পক্ষে পেনাল্টি দেওয়া উচিত ছিল।

মিসর কোচের ক্ষোভ

ম্যাচ শেষে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান রেফারির সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “পরিণতি যাই হোক, আমি আমার মতামত বলব। এটা স্পষ্টভাবেই সাজানো ছিল, আর সবাই তা দেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি তারা এতটাই চায় আর্জেন্টিনা জিতুক, তাহলে বিশ্বকাপে অন্য দলগুলোকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে কেন?”

হোসাম হাসান আরও অভিযোগ করেন, ফিফা ‘ফেয়ার প্লে’র নীতিমালা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘটনাটির তদন্ত দাবি করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে।

অভিযোগ নাকচ করল আর্জেন্টিনা

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তার ভাষ্য, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ম্যাচে কারও পক্ষে প্রভাব খাটানো অত্যন্ত কঠিন।

স্কালোনি বলেন, “১৯৮৬ সালেও বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের জন্য এটি নতুন কিছু নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ভিএআর এবং বর্তমান প্রযুক্তির যুগে কাউকে সুবিধা করে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। এখানে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার খুব বেশি সুযোগ নেই।”

মিসরের বাতিল হওয়া গোল প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, আক্রমণ শুরুর আগে যে ফাউল শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটি খেলার আইনের অধীনে ভিএআর হস্তক্ষেপের শর্ত পূরণ করেছিল।

এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা

পিটিশনটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেও, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো দেয়নি ফিফা।

তবে এই প্রচারণার ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ম্যাচে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি অংশে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারিদের সিদ্ধান্ত আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন