• ঢাকা
  • রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

Advertise your products here

  1. রাজধানী

বারিধারা কাঁচাবাজারে বরাদ্দে অনিয়ম, সংঘর্ষের আশঙ্কা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৫৪ পিএম
বারিধারা_কাঁচাবাজারে_বরাদ্দে_অনিয়ম_সংঘর্ষের_আশঙ্কা
ফাইল ফুটেজ

রাজধানীর বারিধারা জে-ব্লক নতুন বাজারের রাজউক প্রস্তাবিত এই ‘কাঁচাবাজার’ যেন আলাদিনের চেরাগ। চলছে মহাবাণিজ্য! গুরুত্বভেদে একেকটি দোকানের পজিশন মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন সমিতির নেতারা, এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

অবৈধভাবে পজিশন-দোকান বিক্রি এবং চাঁদাবাজির কারণে সেখানকার ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তারা বলছেন, রহস্যজনক কারণে পদক্ষেপ নিচ্ছেন না রাজউক কর্তৃপক্ষ। বারিধারা জে-ব্লক নতুন বাজারের রাজউক প্রস্তাবিত কাঁচা বাজারের (১০১৮ ও ১০১৯ দাগের জমি) দোকান বরাদ্দ কেন্দ্র করে যেকোনো মুহুর্তে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, নতুন বাজারের তিনটি ব্যবসায়ী সংগঠনের মধ্যে একটি সংগঠন নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে ২৬ কাঠার ওই প্লটটি রাজউক থেকে সাময়িক বরাদ্দ পায়। সেখানে ১১৯ জনকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখানো হয়।

বারিধারা নতুনবাজার দোকান মালিক সমিতির যেসব সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্ত দেখানো হয়েছে ইতিপূর্বে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে জমি/প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। দৈনিক পুনরুত্থান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং সেল-এ তাদের কয়েকজনের তালিকা এসেছে। ওয়াজ উদ্দিন প্লট নং-৭২, আবুল হোসেন ছৈলা প্লট নং-০৪, জাহিদুল হক বেপারী প্লট নং-১৪, আব্দুর রউফ নিকুঞ্জ-২, মনসুর আলী নিকুঞ্জ-২, আজগর বাবুল প্লট নং-৪, মাজেদা খাতুন প্লট নং-১২, সোবহান বেপারী প্লট নং-১৮, সালেহ আহম্মেদ প্লট নং-১৮, দ্বীন মোহাম্মদ দিলু প্লট নং-১৮ এবং মজিবুর রহমান বেপারী প্লট নং-১৮ বরাদ্দ পেয়েছেন। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন দু'টি সংগঠনের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

আক্কাস আলী বেপারী নামের একজন ইতিপূর্বে বনানীতে সরকারের রাজউকের ২০ কাঠার প্লট পেয়ে বিক্রি করেছেন। এবার নতুন করে রোড নং ২/এ, বারিধারা জে ব্লকের ৩৬ নং প্লট পুনরায় বরাদ্ধ পেয়েছেন। একইভাবে হাজী আব্দুল জলিল বেপারী রোড নং-৪ জে ব্লকের ২/বি প্লট বরাদ্ধ পাবার পরও তার ছেলের বউ আফরোজা সুলতানার নামে রোড নং-২০ বারিধারা জে ব্লকের ৪০ নং প্লটটি বরাদ্ধ পেয়েছেন। অথচ তালিকা থেকে বাদ পড়া সক্রিয় সংগঠন বারিধারা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এবং বারিধারা নতুন বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গা নিজেদের নামে বরাদ্দের জন্য রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেন দরবার ও আন্দোলন করে আসছিলেন।

 প্রতিবেদন ১>> বারিধারা কাঁচাবাজার যেন আলাদিনের চেরাগ!

প্লট বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা বলেন, রাজউকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিয়েছেন। বিনিময়ে অসাধু কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের টাকা বখরা নিয়েছেন। যাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই ডাবল বেনিফিসিয়ারি। তাদের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে এরআগে বিভিন্নস্থানে প্লট নিয়েছে। তারাই আবার ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে এখানেও প্লট পেয়েছে। রাজউক তাদের ব্যাপারে কোন তদন্ত করেনি। জটিলতা নিরসন না হওয়ায় সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চালন হয়েছে। চাপা ক্ষোভ থেকে যেকোনো সময় ব্যবসায়ীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই সিন্ডিকেট কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজউকের কতিপয় দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা বারিধারা নতুন বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপন আতাত করে তাদের অনুকুলে প্রাথমিক বরাদ্দ পেতে সরাসরি সহযোগিতা করেছে। এমআইএস শাখার রিপোর্ট ছাড়া রাজউকের কোন প্লট বরাদ্দ দিতে পারেন না, কিন্তু বারিধারা জে ব্লক কাঁচাবাজার বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে এমআইএস শাখার রিপোর্ট ছাড়াই সকল প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বারিধারা নতুনবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুরুজ্জামান বলেন, আমরা সার্বিক বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে অবহিত করেছি। আমাদের একটাই দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কাউকেই বাদ দিয়ে নয়, তিনটি সংগঠনের সমন্বয়ে প্লটটি যেন সমবন্টন হয়। কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর চাপা ক্ষোভের অবসান ঘটবে।

সুত্র জানায়, বারিধারা জে ব্লকের ৫নং প্লটের প্রায় ২৬কাঠা সম্পত্তি ১৯৬২সালে অধিগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ছিল অবৈধ দখলদার। ১৯৯৭ সালে ঢাকা-৫ আসনের তৎকালীন সাংসদ ওই জায়গাটিতে কাঁচাবাজার রাখার উদ্যোগ নেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় এবং রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই রাজউক থেকে জায়গাটির সাময়িক বরাদ্দ পায় বারিধারা দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিঃ। এরপর ওই বরাদ্দ বাতিল হলে সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণ করে তিনটি সংগঠনের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমবন্টন করে বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। হঠাতই ২০১৮ সালে ওই জায়গাটি বারিধারা দোকান মালিক সমবায় সমিতিকে এককভাবে সাময়িক বরাদ্দ দেয়া হয়।

বিষয়টি জানার পর অন্য দুই সমিতির ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের ক্ষোভ-অসন্তোষের মুখে ওই সমিতিকে দেয়া ডিও লেটার স্থগিত করেন স্থানীয় সাংসদ। তিনি বারিধারা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ, বারিধারা নতুন বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই জায়গা পুনরায় বরাদ্দ দেয়ার জন্য রাজউক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। সংসদ সদস্য বারিধারা জে ব্লকের ১০১৮ ও ১০১৯ দাগের ওই জায়গাটির বরাদ্দপত্র সমন্বয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর কাছেও চিঠি দেন।

দৈনিক পুনরুত্থান / নিজস্ব প্রতিবেদক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন