ভোটগ্রহণের সময় শেষ, অপেক্ষা ফলাফলের
রক্তস্নাত জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম, দীর্ঘ দেড় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটযুদ্ধ শুরু হয়। ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। তবে যারা এখনো ভোটকেন্দ্রে অপেক্ষায় আছেন, তারা ভোট প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
এদিন সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার পর ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটাররা আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাদের মতামত দিয়েছেন। এখন অপেক্ষা ফল প্রকাশের।
দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ
দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১ কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সচিব বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং হয়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ।
সারাদেশে ৪৮৬টি বিশৃঙ্খলা, জালভোট ৫৯টি
এদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেল থেকে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। জালভোট দেওয়া হয়েছে ৫৯টি এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ৩টি জায়গায়।
সমন্বয় সেলের তথ্য বলছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের সব কেন্দ্রের মধ্যে পোলিং এজেন্টদেরকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৪টি স্থানে। সারাদেশে বিভিন্ন প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ১৩৫ জায়গায়। দেশের সব কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮৬টি ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে সারাদেশে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে তিনটি জায়গায়। ৬ জন প্রার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ৫৯টি জালভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভোট দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। অগ্নিসংযোগের ঘটনা পাওয়া গেছে ৪টি স্থানে এবং নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অবহেলার ঘটনা ঘটেছে ৩৩টি।
এবার সংসদ ভোটে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। এ নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে লড়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জনসহ কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। এছাড়া আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করেছেন।
২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন; এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। এবার ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
- বিষয়:
- ভোটগ্রহণ
- জুলাই অভ্যুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: