এক মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার দেখা মিললো ভোট কেন্দ্রে
মিজান উর রহমান, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
বোয়ালমারীতে একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার দেখা মিলেছে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে ঐ পুলিশ অফিসারের দেখা মেলে, উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের (বেলজানী গ্রামের) একটি ভোট কেন্দ্র বেলজানী-খরসূতী কাসেমুল উলুম মাদ্রাসায়। এখানে তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি হলেন, বোয়ালমারী থানায় কর্মরত এএসআই ফয়সাল আহমেদ।
কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে আসা অধিকাংশ নারী-পুরুষকেই নাড়া দিয়েছে এএসআই ফয়সালের মানবিকতা । কিছু মানুষের আপত্তি দেখা গেলেও অধিকাংশ ভোটারই চাচ্ছিল এ ভাবেই তিনি যেন মানুষের জন্য কাজ করে যান। লক্ষ করা যায়, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ফয়সাল। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোট দেবার জন্য আন্তরিক ভাবে ভোট কেন্দ্রের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষ ভোটার আর ছোট শিশুদের নিয়ে আসা বোনদেরকে সাহায্য করছেন দ্রুত ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য।
অত্যন্ত হাসি-খুশি ভাবে দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার দক্ষতা রয়েছে এই পুলিশ অফিসারের। ভোট দিতে আসা কয়েক জন বয়স্ক বৃদ্ধাকে যত্নের সাথে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন ভোট কেন্দ্রে। পরম মমতায় খোলা মনে এই সেবাদানকে নানা ভাবে বিশ্লষণ করছেন উপস্থিত ভোটাররা।
এএসআই ফয়সালের এমন কর্মকান্ডে একজন মহিলা ভোটার এতোটাই খুশি হয়েছেন যে, তিনি প্রাণখুলে ফয়সালের জন্য দোয়া করেছেন। অপর এক মহিলা ভোটার ফয়সলকে লক্ষ করে বলেছেন, “আমরা যনে আমাদের মেয়ের জন্য এমন মানবিক পুলিশ অফিসার পাই।” উত্তরে ফয়সাল বলেছেন, আপনি যে কথাটা বললেন, তা আমার শাশুড়ীকে বলেন।
২০০৪ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদানকারী এই মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা ১৯৮৪ সালের ৩১ডিসেম্বর যশোরের চৌগাছার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গুহণ করেন। ২০০৪ সালের জুনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। বড় সন্তান ছেলে ১১বছর এবং ছোটটি ৪ বছরের একটি মেয়ে। সুখি দাম্পত্য জীবনে তিনি এই সেবার পেশা পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করেন।
উপস্থিত ভোটারদের মনে দাগ কাটে, তিনি যখন কথা প্রসঙ্গে বলছিলেন, "আমি আপনাদের বোয়ালমারী থানায় আছি, আপনাদের যে কোন বিষয়ে যদি আমার কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয় নির্দ্বিধায় আমার কাছে আসবেন, আমি আপনাদের সেবা করার চেষ্টা করবো।" অনেকেই তাঁর এই কথায় উৎসাহিত হয়েছে। পুলিশের হারানো গৌরব এই ধরণের মানবিক পুলিশ কর্মকর্তারা ফিরিয়ে আনবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পুলিশ মানুষের সত্যিকারের বন্ধু হয়ে উঠুক এই এএসআই ফয়সাল-কে দেখে সেই আশা জেগে উঠলো।
দৈনিক পুনরুত্থান / মিজান উর রহমান
- বিষয়:
- মানবিক* পুলিশ,কর্মকর্তার
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: