• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

অভাবের কাছে হার মানলেন বাবা-মা, নবজাতকের সব অধিকার ছাড়লেন লিখিতভাবে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৪৬ পিএম;
অভাবের কাছে হার মানলেন বাবা-মা, নবজাতকের সব অধিকার ছাড়লেন লিখিতভাবে

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় সড়কের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক কন্যাশিশুর বাবা-মায়ের সন্ধান মিলেছে। তবে চরম দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব ও শিশুটির শারীরিক জটিলতার কারণে তারা নবজাতককে নিজেদের কাছে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামায় তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে শিশুটির পরিচয়, অভিভাবকত্ব বা তার ওপর কোনো ধরনের দাবি-দাওয়া করবেন না।

জানা গেছে, গত ৬ জুলাই ভোরে উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় জেলা পরিষদের সড়কের পাশ থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। পরে শিশুটিকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটিকে দত্তক বা লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে একাধিক ব্যক্তি আবেদন করেন।

পরদিন উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নোয়াপাড়া ইউনিয়নের উত্তর শাহপুর গ্রামের নিঃসন্তান জাবেদ আলীর জিম্মায় শিশুটিকে সেফ হোম হিসেবে রাখা হবে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এটি স্থায়ী হস্তান্তর নয়; শুধুমাত্র শিশুটির নিরাপত্তা ও পরিচর্যার স্বার্থে নেওয়া সাময়িক ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে শিশুটির বাবা বাসির ও মা শিরিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, তাদের সংসারে আগে থেকেই দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী। সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকটিও জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। স্বল্প আয়ের চাকরিতে কোনোমতে সংসার চালাতে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসা ও লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আবেগাপ্লুত হয়ে বাসির বলেন, “আমরা মেয়েটিকে হত্যা করতে চাইনি। ভেবেছিলাম, কোনো হৃদয়বান মানুষ যদি তাকে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করেন, তাহলে তার ভবিষ্যৎ আমাদের চেয়ে ভালো হবে।”পরে বাবা-মা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে ঘোষণা দেন, ভবিষ্যতে তারা শিশুটির পরিচয় প্রকাশ, অভিভাবকত্ব কিংবা তার ওপর কোনো অধিকার দাবি করবেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বাবা-মায়ের লিখিত অঙ্গীকার পাওয়ার পর এখন প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী শিশুটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন