• ঢাকা
  • শনিবার, ১৪ ফেরুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ফরিদপুরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, আহত ২০


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:১১ পিএম;
ফরিদপুরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, আহত ২০

মিজান উর রহমান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

 

ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পৃথক দু'টি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। 

সংঘর্ষ চলাকালে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন-পরবর্তী প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সুত্রপাত। সালথা উপজেলার খারদিয়া এলাকায় টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে সেই বিরোধ চরমে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

অপর দিকে, বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকায় আব্দুল মান্নান ও মজিবর সরদার গ্রুপের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের কয়েকটি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। নটখোলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়খারদিয়া, নটখোলা ও ময়েনদিয়া গ্রামে সংঘর্ষের চিহ্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পুড়ে যাওয়া ঘরের দেয়াল, ভাঙা দরজা-জানালা ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষ্য দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পূর্বেও একাধিকবার ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

দৈনিক পুনরুত্থান / মিজান উর রহমান 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন