সৌজন্যের রাজনীতিতে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ব্যারিষ্টার নওশাদ জমির
মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড়:
সদ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গনভোট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চগড় ১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার নওশাদ জমির তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক ( উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। গ্রাম থেকে শহর এ জনপদের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে পৌছায়নি তাদের নির্বাচনী প্রচারণার আলো। প্রচারনার ঝরেও সৌজন্যের রাজনীতির একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ব্যারিষ্টার নওশাদ জমির।
বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেখানে জয়-পরাজয় মানেই প্রতিহিংসা আর কাদা ছোড়াছুড়ি, সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র এঁকেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকে বিজয়ের মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি যে ধৈর্য, শালীনতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, তা এ অঞ্চলের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পুরো নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যারিষ্টার নওশাদ জমিরের মুখে শোনা যায়নি কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য বা ব্যক্তিগত আক্রমণ। তার বক্তব্যে কাঁদা ছুড়াছুঁড়ি নয় ছিল জনকল্যাণমুখী উন্নয়নের কথা। আক্রমণাত্মক স্লোগান আর বিষোদগারের ভিড়ে তিনি শুনিয়েছেন উন্নয়নের স্বপ্ন। তাঁর প্রতিটি বক্তৃতায় প্রাধান্য পেয়েছে, এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, তরুণ প্রজন্মের জন্য মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার করা, বেকারত্ব দূরীকরণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।
ভোটারদের মতে, নওশাদ জমিরের এই "পজিটিভ ক্যাম্পেইন" সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ না করেও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া সম্ভব।
নির্বাচনী লড়াই শেষে ফলাফল তাঁর পক্ষে আসার পর বিজয়োল্লাসে মত্ত না হয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন ভ্রাতৃত্বের পথ। বিজয়ী হওয়ার পরপরই তিনি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরেন। রাজনীতির মাঠে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী সাথে আলিঙ্গন করে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা দিয়েছেন, এই জনপদের উন্নয়নে একসাথে কাজ করার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিষ্টার নওশাদ জমিরের এই আচরণ বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য একটি আদর্শ । জয়ী হয়েও প্রতিপক্ষকে সম্মান জানানো এবং প্রতিহিংসার বদলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এটিই মূলত পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মূলমন্ত্র।
ব্যারিষ্টার নওশাদ জমির কেবল একটি আসনেই বিজয়ী হননি, বরং তিনি জয় করেছেন মানুষের মন ও শ্রদ্ধা। তাঁর এই অদম্য সৌজন্যবোধ এবং উন্নয়নমুখী ধ্যান ধারনা সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক পজিটিভ পরিবর্তনের সূচনা করবে বলেই পঞ্চগড়ের মানুষ মনে করছেন।
দৈনিক পুনরুত্থান / মাহামুদুল ইসলাম জয়,
- বিষয়:
- সৌজন্যের* রাজনীতিতে,অনন্য
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: