• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ ফেরুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

গণতন্ত্রে উত্তরণের দুই মহানায়ক


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:১৩ পিএম;
গণতন্ত্রে উত্তরণের দুই মহানায়ক

নানা শঙ্কা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাটিয়ে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে অবশেষে গণতন্ত্রে ফিরেছে দেশ। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকা এখন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত। কারণ এই দু’জনের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছাড়া দেশে স্মরণকালের সবচেয়ে সুন্দর একটি নির্বাচন সম্ভব ছিল না। নির্বাচনের আগে দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা বিভেদ ও মতদ্বৈধতা ছাড়াও মব সন্ত্রাস ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে অনেকে ড. ইউনূসকে নিয়ে নানা কথা বলেছেন। এমনও অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন যে, তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না। সেনাবাহিনী নিয়ে অকারণে নানা গুঞ্জন ছড়ানো নয়েছে। কিন্তু সেনাপ্রধান ৫ আগস্টের পর থেকেই দেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের কথা বলেছেন। ড. ইউনূস কথা বলতেন কম, শুনতেন বেশি। কিন্তু নির্বাচন করার প্রশ্নে প্রথম থেকেই আন্তরিক ছিলেন। কিন্তু তারপরও তার বিরুদ্ধে নানা গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভোট ডাকাতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে একটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। অনেকে বলেছিলেন, নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ঘটবে। কিন্তু সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো অঘটন ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অনেকেই ড. ইউনূস এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে গণতন্ত্রে উত্তরণের মহানায়ক হিসাবে অভিহিত করছেন। তারা বলছেন, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা এই দুই ব্যক্তি আন্তরিক না হলে অভূতপূর্ব এমন নির্বাচন সম্ভব ছিল না। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরোবিশ্ব এই নির্বাচনের প্রশংসা করেছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় বছরে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে সরকার। ফ্যাসিস্ট সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে গেছে। বেশির ভাগ ব্যাংক ছিল খালি। পণ্য আমদানি ও বিদেশি বিল পরিশোধে ডলার ছিল না। পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়েছিল। যুবসমাজ ও স্বৈরশাসনে ক্ষতিগ্রস্তদের তীব্র ক্রোধ এবং ভারতীয় মিডিয়ার বাংলাদেশবিরোধী ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার মোকাবিলা সরকারের জন্য ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। আবার এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ড. ইউনূসের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল সীমাহীন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশে স্থিতিশীলতা ফেরানো ছিল সবচেয়ে কঠিন। সরকার সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে জুলাই সনদ স্বাক্ষর এবং গণভোটের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত আইনিভিত্তি দিয়েছে। সরকারের দায়িত্ব ছিল তিনটি। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি নির্বাচন। এই তিনটিই তারা দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।

এক্ষেত্রে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ছিল সবচেয়ে বেশি। অধিকাংশ মানুষের সংশয় ছিল, শেষ পর্যন্ত ড. ইউনূস নির্বাচন করতে পারবেন কিনা। পুলিশ ছিল অনেকটাই নিষ্ক্রিয়, আওয়ামী লীগের নির্বাচন প্রতিহতের হুমকি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান নির্বাচনকে ঝুঁকিপূর্ণ করেছিল। কিন্তু জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। নির্বাচনে ১ লাখের বেশি সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় তারা দুর্বৃত্তদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচনে সহায়তা করেছে। এতে শুধু দেশের মানুষ নয়, পুরো বিশ্ব এই নির্বাচনের প্রশংসা করেছে।

নির্বাচন নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, এবারের নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় ঐতিহাসিক ও মাইলফলক। ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর দিন। ভোট দিয়ে আপনার অধিকার বুঝে নিন। পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। এ সময়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার করা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে রাষ্ট্র কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণ সহ্য করবে না। এদিকে রাজধানীর একটি ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধান বলেছিলেন, দেড় বছর ধরে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সবাইকে অনুরোধ করছি, আপনারা নির্ভয়ে বাসা থেকে বের হয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিন। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন