• ঢাকা
  • রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

প্রমাণের পাহাড়, জনক্ষোভ তীব্র; তবুও নীরব প্রশাসন—মনোহরদীর স্বাস্থ্য সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কী?


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:২৮ পিএম;
প্রমাণের পাহাড়, জনক্ষোভ তীব্র; তবুও নীরব প্রশাসন—মনোহরদীর স্বাস্থ্য সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কী?

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথিত অনিয়ম, অবৈধ ফি আদায়, দায়িত্বে অবহেলা ও রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. রাশেদুল হাসান মাহমুদ ও তার সহধর্মিণী ডা. নীলা ইসরাক সুলতানা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

‘দৈনিক পুনরুত্থান’-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মনোহরদীজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ইতোমধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ দেখেছেন এবং দুই হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। পাশাপাশি ৮০০টিরও বেশি মন্তব্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাগ্রহীতারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য করা, দাপ্তরিক কাজে স্বেচ্ছাচারিতা এবং টিকিট কাউন্টারে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকিট কাউন্টারে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ আদায়, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং বিভিন্ন বিষয়ে রোগীদের হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিককেন্দ্রিক কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নরসিংদী জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে ই-মেইল ও লিখিতভাবে অভিযোগ ও তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু অভিযোগ প্রকাশের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান তদন্ত কমিটি গঠন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এত অভিযোগ ও জনঅসন্তোষের পরও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না কেন।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও সন্দেহও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অতীতে কথিত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি ঠেকানোর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী দাবি করেন, অতীতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দম্পতি ঊর্ধ্বতন মহলে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে বদলি ঠেকিয়েছিলেন। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই কর্মচারীর প্রশ্ন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও যদি এত অভিযোগ ও প্রমাণের পর প্রশাসন নীরব থাকে, তাহলে এর পেছনে কোনো প্রভাব বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো নিয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পেছনে কারও প্রভাব, স্বার্থ বা আর্থিক লেনদেনের ভূমিকা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মনোহরদীর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নেবে এবং তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করবে। এতে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য যেমন বেরিয়ে আসবে, তেমনি সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া মানুষের আস্থার সংকটও দূর করা সম্ভব হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন