শ্রমবাজার খোলার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
শ্রমবাজার খোলার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
- সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই ও দুটি দলিল বিনিময় ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।
গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান এসব কথা জানান।
দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) বৈঠকের আয়োজন এবং নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ ঘোষণায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সফরে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে দেশটিতে যান তিনি। এই সফরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান ও জমকালো আয়োজনে তারেক রহমানকে বরণ করে নেয় মালয়েশিয়া।
সফরে পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে তাঁকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়।
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দলিল দুটি বিনিময় করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরো বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’ প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তাগুলোর একটি পেয়েছিলাম, তা ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। তাঁর সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বৈঠকে সংস্কৃতিবিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হওয়ায় স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরো সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহবান জানাচ্ছি।’
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।’ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের স্বাগত জানাতে পেরে গর্ববোধ করবে।’
দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, দুই দেশ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরুর অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে। উভয় পক্ষ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও পারস্পরিক লাভজনক চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের অগ্রগতিও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও ব্যাবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার মালয়েশিয়া। দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমবাজার বিষয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল শ্রমবাজার। যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারেও ভূমিকা রাখছেন।
বাংলাদেশ নতুন করে কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব উত্থাপন করলে মালয়েশিয়া জানায়, তাদের বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকের কোটা খাতভিত্তিক চাহিদা বিবেচনায় অনুমোদন করা হয়। তবে অনুমোদিত কোটার ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ন্যায়সংগত, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলক রাখার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজন করবে।
যৌথ ঘোষণায় ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহবানও জানানো হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান আদান-প্রদানের মাধ্যমে একটি যৌথ প্রতিভা উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ইসলামী অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা বিবেচনায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া হালাল শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারি, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) সম্প্রসারণে একমত হয়েছে দুই দেশ। এ ছাড়া যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি, শিক্ষাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হবে।
‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিক্যাল ট্যুরিজম ২০২৬’ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানিয়েছে মালয়েশিয়া। পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদাারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। মালয়েশিয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে গঠনমূলকভাবে সমর্থনের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

মালয়েশিয়ার পাঁচ শীর্ষ কম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আনতে মালয়েশিয়ার পাঁচ শীর্ষ কম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে কুয়ালালামপুরে শাংগ্রি লা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এ কথা জানান।
মালয়েশিয়া ছেড়ে যাওয়ার আগে মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মাহাদী আমিন বলেন, ‘এসব সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের কর্মসংস্থানকে আরো বেগবান করা। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা সেই কম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পেট্রোনাস গ্রুপ, আগজিয়াটা, এয়ার এশিয়া, পারডুয়া ও এমএমসি ফোর্স।
মাহাদী আমিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ব্যাপকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে ভিন্নমাত্রিক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সেটিকেও মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেছেন।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: