• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. আর্ন্তজাতিক

ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত ফ্রান্স জার্মানি যুক্তরাজ্য


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৫৬ পিএম;
ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত ফ্রান্স জার্মানি যুক্তরাজ্য

ইরানে তিন দিন ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই দুই পরাশক্তিকে সামাল দিতেই হিমশিম খাচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র। এরপরও দেশটি সমানতালে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোয় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে। সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরু পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। এবার মোড় নিল ভিন্ন দিকে, তেহরানকে হয়তো মোকাবিলা করতে হবে আরো তিন দেশকে, কারণ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভূখণ্ডে হামলা চালাতে প্রস্তুতি নিয়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।

রোববার (১ মার্চ) প্যারিস, লন্ডন ও বার্লিন জানায়, তারা প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের এবং তাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রস্তুত।

তিন দেশের নেতাদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরান এ অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর যেভাবে নির্বিচারে এবং অপেশাদার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তাতে আমরা স্তম্ভিত। বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রাথমিক সামরিক অভিযানে জড়িত ছিল না, তারাও এ হামলার শিকার হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের এই বেপরোয়া হামলা আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এ অঞ্চলে নিয়োজিত আমাদের কর্মী ও সাধারণ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আমরা ইরানকে অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানাই।’

বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের এবং আমাদের আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার উৎসস্থলেই ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য আমরা সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারি। আমরা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলের অন্য মিত্রদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে একমত হয়েছি।’

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি যৌথভাবে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপর দেশটি পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে সিরিজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।

জার্মান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ইরানের হামলায় উত্তর ইরাকের এরবিলে একটি বহুজাতিক সামরিক ঘাঁটি এবং জর্ডানের পূর্বে একটি জার্মান সামরিক ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) রোববার (১ মার্চ) এক ‘ব্যাপক আকারের’ হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এরপর রিয়াদ, দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মানামা, জেরুজালেম ও তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরাইলি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানায়, বেইত শেম শহরে অন্তত ৯জন নিহত হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে নিজেদের বৈধ দায়িত্ব ও অধিকার বলে মনে করে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার মার্কিন চ্যানেল এবিসি নিউজকে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমরা নিজেদের রক্ষা করছি। আমাদের জনগণকে রক্ষা করার জন্য আমরা কোনো সীমাবদ্ধতায় বিশ্বাস করি না।’

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন