লেবাননে বিমান হামলায় নিহত দিপালীর দাফন সম্পন্ন
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব চরশালেপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া দিপালী (৩৪) প্রবাসে স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন নিয়ে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম, সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মধ্য-প্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে বিমান হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে বৈরুতের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ এক মাস পর শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) দিপালীর মরদেহ দেশে ফিরলে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দোহারের মৈনুট ঘাটে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ট্রলারে চর শালেপুর মান্দারতলা ঘাট হয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে পৌঁছে দেওয়া হয় গ্রামের বাড়ি মুন্সিরচরে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় মুন্সিরচর ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চরভদ্রাসন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন, ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক সিদ্দিকী, অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ)-এর ফিল্ড অফিসারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জানাজার আগে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম ফোনে দিপালীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দিপালী আর আমাদের মাঝে নেই, তবে প্রশাসন সবসময় পরিবারের পাশে থাকবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিপালী ২০১১ সালে প্রথমবার বিদেশে যান পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে। দেশে ফিরে এলেও অভাব-অনটনের কারণে ২০২৪ সালে আবারও লেবাননে যান। সেখানে তিনি একটি পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।
সম্প্রতি লেবাননের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তিনি গৃহকর্তার পরিবারের সঙ্গে বৈরুতে আশ্রয় নেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দিপালী ছিলেন চরভদ্রাসন উপজেলার সেক মুকারের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। অবিবাহিত এই নারীর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: