• ঢাকা
  • সোমবার, ১৬ ফেরুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

এবারও রোজার আগেই নিত্যপণ্যের বাজার গরম


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৫২ এএম;
এবারও রোজার আগেই নিত্যপণ্যের বাজার গরম

 

  • লেবু ৭০-৮০ টাকা হালি
  • খেজুর কেজিতে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে
  • করলা ১২০-১৪০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকা কেজি

রমজান সামনে রেখে মাছ-মাংস, সবজি, পেঁয়াজ, ছোলা, খেজুর, লেবু ও বিভিন্ন ফলসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পুরনো প্রবণতা এবারও দৃশ্যমান। মৌসুম ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাজার স্বাভাবিক হবে বলে ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিলেও সাধারণ ভোক্তারা রয়েছেন উদ্বেগে।

বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য আসন্ন রমজান মাসে বাজারব্যয় সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

গতকাল রবিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে যেসব লেবুর হালি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেগুলো এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং ৪০ টাকা হালিতে বিক্রি হওয়া লেবু ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাড্ডার খুচরা লেবু বিক্রেতা মো. হারুন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন লেবুর মৌসুম না হওয়ার কারণে বাজারে লেবুর সরবরাহ কম। যার কারণে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মৌসুম শুরু হলে দাম স্বাভাবিক হবে বলে তাঁরা জানান।

মহাখালী কাঁচাবাজারে কথা হয় আফজাল খানের সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোজার এক মাস আগে থেকেই লেবু সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এটা তো আর আমদানি করে আনতে হয় না। মূলত বাজারে তদারকি না থাকার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ এদিকে শবেবরাত থেকেই বাড়তে শুরু হয়েছে মাংসের দাম। একই সঙ্গে মসলাজাতীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। বর্তমানে দাম বেড়ে মানভেদে সোনালি মুরগি কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগিও দাম বেড়ে কেজি ১৯০ টাকায় উঠেছে।  গরুর মাংস বেড়ে কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের রুই, তেলাপিয়া, কাতল মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে।

 

রমজানের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই খেজুরের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খেজুর আমদানিতে শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও দাম কমেনি, বরং কিছু জাতের খেজুরের দাম বেড়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে কয়েকটি খেজুর কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি দাবাস ও বরই খেজুর মানভেদে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। জাহিদি খেজুর কেজি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়, আজওয়া খেজুর মানভেদে ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা, ছোট সাইজের আজওয়া খেজুর ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়, মেডজুন খেজুর ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায়, ভালোমানের মরিয়ম খেজুর ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়, সুক্কারি খেজুর ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়, ছড়া খেজুর মানভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়, কালমি খেজুর ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, সুগাই খেজুর ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁরা দাম বাড়াননি, বরং বেশি দামে কিনতে হয়েছে। আমদানিতে সরাসরি যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের টানা শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে খালাস বন্ধ থাকায় সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুল্ক ছাড়ের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বন্দরের অচলাবস্থা ও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে খেজুরের দাম তেমন কমেনি। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে, শুল্ক ছাড়ের সুফল পরে আসতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রধান ফলের পাইকারি আড়ত রাজধানীর বাদামতলী বাজার। বাদামতলীর ফল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মোল্লা ফ্রেশ ফোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আল-আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূল সমস্যা হচ্ছে বন্দরের অস্থিরতা। এই অস্থিরতার কারণে আমরা সময়মতো খেজুর খালাস করতে পারিনি। বর্তমানে রমজানের পুরো মৌসুম চলছে। এবার বিপুল পরিমাণ খেজুর আমদানি হয়েছে। যদি বন্দর স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাতে পারে, তাহলে বাজারে কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো—বন্দরে পণ্য খালাস হচ্ছে না, যার ফলে প্রায় ১৫ দিনের একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।’

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ৯০ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। রমজান মাসে বার্ষিক চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ বিক্রি হয়।

এদিকে শীতের মৌসুম শেষ হতে না হতেই বেশ কিছু সবজির দাম বেড়ে গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ কেজি ১৬০ টাকায়, বেগুন জাতভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়, শসা ৮০ টাকায়, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, লম্বা লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, শিম মানভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৬০ টাকায়। দেশি রসুন ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৬০ টাকা। আদা ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায়, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, চিনি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন