শেরপুরে ঋণখেলাপী ও তথ্যে গরমিল থাকায় ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বড় ধরনের রদবদল পরিলক্ষিত হয়েছে। ঋণখেলাপী, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং দাখিলকৃত নথিপত্রে নানা ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিত ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শেরপুর-১ (সদর) আসন:
এই আসনে ঋণখেলাপী ও নথিপত্রে তথ্যের গরমিল থাকায় তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টির মাহমুদুল হক মনি, ইলিয়াস উদ্দিন এবং খেলাফতে মজলিসের শফিকুল ইসলাম। যাচাই-বাছাইকালে তাদের ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ না করা এবং হলফনামায় তথ্যের অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ায় নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিপরীতে, সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ও তথ্য যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়ে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এবং এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়ার আবেদনপত্র সঠিক পাওয়ায় তাদের বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন:
শেরপুর-২ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব (অস্ট্রেলিয়া) ত্যাগের যথাযথ প্রমাণপত্র দাখিল না করা পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রেখেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিলেই তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্রের মূল কপি না থাকায় ইলিয়াস উদ্দিন এবং ঋণখেলাপীসহ নথিপত্রে নানা অসঙ্গতি থাকায় জাতীয় পার্টির রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েসের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণাট করেছে প্রশাসন।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসন:
শেরপুর-৩ সংসদীয় আসন (১৪৫) থেকে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মুহাম্মদ সাই এর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি প্রার্থীর তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে। যাদের নথিপত্রে ঘাটতি ছিল বা যারা আইনগত শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাদের আবেদন বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করার সুযোগ পাবেন।
এই ঘোষণার পর শেরপুরের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক উত্তাপ ও কৌতূহল আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিতের বিষয়টি সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াই বা আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান কি না।
দৈনিক পুনরুত্থান /
- বিষয়:
- শেরপুর
- মনোনয়ন বাতিল
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: