রাজউকের জব্দ করা বিদ্যুৎ মিটার নিয়ে পরিদর্শকের জমজমাট ফেরত ব্যবসা
রাজউকের মোবাইল কোর্টে জব্দ করা বিদ্যুৎ মিটার নিয়ে ইমারত পরিদর্শক জমজমাট ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।সূত্র বলছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক জোন-৪/২ এর ইমারত পরিদর্শক মোঃ সোহাগ মিয়া'র বিরুদ্ধে এমন বহু মৌখিক অভিযোগ।অভিযোগ সূত্র জানায়,গত ৯ জুলাই উত্তর বাড্ডার পুরাতন থানা রোড এলাকার হাসান উদ্দিন সড়ক ও একতা আবাসিক এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে রাজউক।অভিযানে নকশা লঙ্ঘনের দায়ে ১০ টি নির্মাণাধীন ভবনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৯টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার জব্দ করা হয়।মোবাইল কোর্টের দিন পরিদর্শকের সাথে ভবন মালিকগণের অনেকে যোগাযোগ করলে তাদের অফিসে আসার কথা বলা হয়েছিল বলে সূত্র জানায়।পরদিন ভবন গুলোর অনেকেই মিটারসহ অন্যান্য বিষয়ে পরিদর্শক এর সাথে কথা বলার জন্য গিয়েছিল,অনেকে আবার তাদের অনুমোদিত নকশা নিয়ে গিয়েছিল বলেও জানা যায়।
পরিদর্শক এর সাথে যোগাযোগ করা মালিকগণকে তাদের জব্দ করা মিটার অর্থ চুক্তির মাধ্যমে ৪ সপ্তাহের মধ্যেই ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে আশস্ত করে থাকেন এমন তথ্য রয়েছে।স্থানীয় একজন বলেন সোহাগ কে তার সাথে সকল মালিকগণকে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল নাম্বার দিয়ে গিয়েছে।আর জব্দ করা মিটার ফেরত পাওয়ার এই চুক্তিগুলোর মূল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য পরিদর্শক আড়ালে থেকে তার একান্ত আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করার জন্য সহকারী মোঃ খোরশেদকে দায়িত্ব দিয়ে থাকেন।যদিও খোরশেদ রাজউকের নিয়োগ ভূক্ত কোন কর্মচারী নয় তারপরও পরিদর্শকের পৃষ্ঠপোষকতায় কর্মচারীর মতোই চেয়ার টেবিলে বসে সকল কাজ কর্ম করছেন।পরিদর্শক নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য কৌশল করে মিটারের সকল আর্থিক চুক্তি থেকে শুরু করে মিটার পাওয়ার আইনী কার্যক্রমের তদারকি খোরশেদ এর মাধ্যমেই করছেন বলে জানা যায়।মালিগণও নিজেদের প্রয়োজনে পরিদর্শকের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী খোরশেদ এর সাথে মিটার প্রাপ্তির সমঝোতা সাড়ছেন সংকোচ ছাড়াই।দফায় দফায় খোরশেদ এর সাথে মালিগণ কানে কানে বারান্দায় গিয়ে তাদের দর কষাকষির রফা দফা করছেন এমন ফুটেজ রয়েছে।প্রতিটি মিটার আড়াই থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মতো করে মালিগণকে খরচ করতে হচ্ছে বলে জানা যায়।অপর এক সূত্র বলছে,শুধু এই এলাকার জব্দ করা মিটার দিয়ে যে তিনি তার মিটার ফেরত ব্যবসার সূচনা করেছেন এমনটি নয়।খোজ নিয়ে দেখেন এর আগে ভাটারা থানার ছোলমাঈদ এলাকায় এমন ভাবে জব্দ করা মিটার ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে তার অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের লোভ বৃদ্ধি পায় বলে একটি ভবনের সাইট কন্ট্রাক্টর বলেন।তিনি আরও বলেন, এই এলাকার অনেক গুলো নির্মাণাধীন বাড়ির বিদুৎ মিটার প্রায় এক বছর আগে জব্দ করেছিল রাজউক।এর মধ্যে এই পরিদর্শকের মাধ্যমে কয়েকটি মিটার এসেছে যার বিনিময়ে মোটা অর্থের চুক্তি হয়েছিল।
নাম না প্রকাশের শর্তে একজন বলেন,হ্যাঁ এমন কথা আমরাও শুনেছি দুটি মিটারের বিনিময়ে না কি?নগদ ৮ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছিল।রাজউকের কাজকর্ম করেন এমন একজন বহিরাগত লোক সূত্রে জানা যায় গত কুরবানীর ঈদের কয়েকদিন আগে এই পরিদর্শকের দায়িত্বাধীন আনন্দ নগর এলাকায় আরো একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছিল সেখানে ৫ টি মিটার জব্দ করা হয়েছিল।সেই এলাকার মিটার গুলোও এভাবে ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা করেছেন এই পরিদর্শক ও তার সহচর খোরশেদ।আরো একটি বিশ্বাস্ত সূত্র জানায় ভাটারা থেকে আনন্দ নগর এই বিস্তৃর্ণ এলাকার একক দায়িত্ব পেয়ে পরিদর্শক তার একক নীতি অনুসরণ করেছেন।গত দুই বছরের অধিক সময়ে দায়িত্বে থেকে নকশা বহির্ভূত কার্যক্রম ঠেকাতে ভবনগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেননি বরং রাজউকের বেতন ভোগ করে কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা নকশা লঙ্ঘনকারীদের কাছে প্রকাশ করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করেছেন।দায় এড়াতে দুএকটি চিঠি চালাচালি করেছেন আবার নানা কৌশলে দীর্ঘ সময়ের কালক্ষেপণ করে ভবনগুলোকে নির্মাণ কাজ শেষ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।তার সাথে যে সব ভবন মালিকগণের আতাঁত হয়েছে সে সকল এলাকায় কখনো মোবাইল কোর্ট হয়নি এমন এলাকা রয়েছে অসংখ্য এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পূর্ব বাড্ডা,সোনাকাটারা,পূর্ব আনন্দনগর,আলিফ নগর এসব এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের সংখ্যাও কম নয়।আরো জানা যায়,এই পরিদর্শক শুধু নকশা নিয়ম অমান্য করা ভবন মালিকদের সাথে নিজ সুবিধায় চাকরি দায়িত্ব থেকে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন এমন নয় তার দায়িত্ব পরিবর্তন হলেও যাতে ভবনটির নির্মাণ কাজ বাধ্য গ্রস্ত না হয় সে জন্য ভবন মালিককে রীট করার পরামর্শ দিয়েও তাদের পাশে থেকেছেন এমন নজিরও রয়েছে।মোবাইল কোর্টে জব্দ করা মিটার গুলো যে পরিদর্শকের কৌশলী পন্থায় ফেরত মিলছে তার সত্যতা নিশ্চিত হতে উত্তর বাড্ডার একতা রোড এর একটি ভবন মালিক এর সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,রাজউকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে যেহেতু রাজউকের মাধ্যমে কাটা হয়েছে রাজউকের মাধ্যমে আনাই ভালো।আরেকজন বলেন,আবেদন করা হয়েছে তবে কার মাধ্যমে আনছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,এর চেয়ে বেশি শেয়ার করা যাবে না।
সূত্র বলছে এই ব্যক্তি মোবাইল কোর্ট এর পরের দিন পরিদর্শকের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন সে ফুটেজ রয়েছে।পরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করা যে সকল মিটার গুলো ইতিমধ্যে ভবন মালিকরা ফেরত পেয়েছেন পরিদর্শক তার আয়ের কৌশল যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য কাউকে আগেই প্রক্রিয়া বলছেন না।শুধু বলছেন আপনার মিটার পাওয়ার দরকার মিটার পেলেই হলো।তবে একজন সচেতন লোক বলেন,যে অপরাধের দায়ে রাজউক বিদ্যুৎ মিটার গুলো জব্দ করেছে ভবন মালিক তো তার সেই নকশা লঙ্ঘন সংশোধন করেননি তাহলে রাজউক কি ভাবে তাকে মিটার ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।রাজউকের কাছে এমন অসংখ্য আবেদন পড়েছে শুধু সময় যাচ্ছে কোন ভবন মালিক তার মিটার পেয়েছে এমনটি জানা নেই।এই সুযোগটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে পরিদর্শক তাদের পরিচিত এ্যাডভোকেট এর মাধ্যমে উচ্চ আদালতে রীট দায়ের এর মাধ্যমে মিটার আনার ব্যবস্থা করে মাঝখান দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের একটি সূ-কৌশলি পন্থা বেঁছে নিয়েছেন।কিন্তু মহামান্য আদালত মিটার ফেরতের নির্দেশনা দিলেও ভবন মালিকগণকে রাজউক অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করার নির্দেশও দিয়েছেন।তাহলে প্রশ্ন হলো যে সমস্ত মিটার ফেরত পেলো তাদের নকশা কি সংশোধন হয়েছে যদি না হয় পরিদর্শক সে সমস্ত ভবন গুলোর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কি দায়িত্ব পালন করেছে বা কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কি? কারণ সে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের নোটিশ জারি করবে না কেননা মিটার গুলো তার সহায়তায় ফেরত পাওয়া।
এ ভাবেই পরিদর্শক মোবাইল কোর্টে জব্দ করা মিটার গুলো ফেরত দেওয়ার কৌশলি ব্যবসায় নিজের আয় সচ্ছল করছেন।রাজউকে দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করেন এমন একজন বলছে,তার এমন দায়িত্ব বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের তথ্য নিয়ে প্রতিনিয়ত তার টেবিলে গণমাধ্যম কর্মীদের আসা যাওয়া চোখে পড়ছে তবে ম্যানেজ পন্থার কারণে হয়তো তার চাকরি দায়িত্বের অবহেলার বিষয়গুলো আর কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে না।তিনি আরও জানান,আর কয়দিন হয়তো কিছু দিন এর মধ্যে তিনি অন্য জোন এলাকায় বদলি হবেন বলে শুনতে পাচ্ছি।এই এলাকার দায়িত্বকালিন সময় জবাবদিহি মুক্ত যে স্বাদ তিনি পেয়েছেন তা ছেড়ে অন্য এলাকায় যাবে বলে মনে হয় না।কঠিন আঠা দিয়ে আকড়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেই আমার মনে হচ্ছে।
এক দিকে রাজউক তাদের পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য গ্রাহকদের আইন প্রতিপালনে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করছেন অপরদিকে তাদের নিয়োগ ভূক্ত মাঠ পরিদর্শকরা গ্রাহকদের আইনি ফাঁকফোঁকরে সহায়তা করে অবৈধ অর্থ উপার্জনে মেতে উঠেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একজন সচেতন বাসিন্দা।রাজউকের মহাপরিকল্পনা নস্যাৎ চেষ্টায় জড়িত এমন পরিদর্শকের বিষয়ে কঠোর তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এদের কারণে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের পরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে না বলে অভিমত দিয়েছেন একজন সমাজ বিশেষজ্ঞ।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: