• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১১ আগষ্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

দুই বছরেও ধরা পড়েনি শেরপুর কারাগারের ৩৪৫ পলাতক বন্দি, উদ্ধার হয়নি ১১৪৩ রাউন্ড গুলি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৪৪ এএম;
দুই বছরেও ধরা পড়েনি শেরপুর কারাগারের ৩৪৫ পলাতক বন্দি, উদ্ধার হয়নি ১১৪৩ রাউন্ড গুলি

শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া ৫১৮ জন বন্দির মধ্যে দুই বছরেও ৩৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই ঘটনায় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে এখনো ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়নি।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত শেরপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগে কারাগার থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয় এবং ৫১৮ জন বন্দি পালিয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় দুই বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও এখনো ৩৪৫ জন পলাতক রয়েছেন।

এদিকে কারাগার থেকে লুট হওয়া ৯টি অস্ত্র পরবর্তীতে উদ্ধার করা হলেও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি। কারাগার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া ৮৪৪ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ছাড়া শটগানের ৩৩১ রাউন্ড গুলির মধ্যে মাত্র ৩২টি উদ্ধার হয়েছে। ফলে চায়না রাইফেল ও শটগান মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেরপুর জেলা জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর কিবরিয়া কামরুল বলেন, পলাতক বন্দিদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তরাও রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে না পারলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

শেরপুর মডেল ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক দেলোয়ারা সোহেলী জানান, পলাতক অপরাধী ও খোয়া যাওয়া গোলাবারুদ দ্রুত উদ্ধার না করলে শেরপুরের পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত করা কঠিন হবে এবং এটি অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে পারে।

শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. হযরত আলী বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় প্রশাসনকে শুরু থেকেই সহযোগিতা করে আসছি। তিনি অবশিষ্ট গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশাও খোয়া যাওয়া গোলাবারুদ উদ্ধারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও জেলা ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা রাজিয়া সামাদ ডালিয়া পলাতক বন্দি ও অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

শেরপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শাহ্ রফিকুল ইসলাম জানান, ৮৪৪ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি এবং শটগানের ২৯৯ রাউন্ডসহ মোট ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলির কোনো হদিস মেলেনি। সেই সঙ্গে ৩৪৫ জন বন্দিও পলাতক রয়েছে।

শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং খোয়া যাওয়া গোলাবারুদ উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন