• ঢাকা
  • সোমবার, ১০ আগষ্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

সৌদি আরবে আগুনে নিহতদের মধ্যে আত্রাইয়েরই রয়েছে ১১জন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:১৪ পিএম;
সৌদি আরবে আগুনে নিহতদের মধ্যে আত্রাইয়েরই রয়েছে ১১জন

সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা কারখানায় আগুনে ১৬জন নিহতদের মধ্যে শুধুমাত্র নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা রয়েছে ১১জন। রোববার বিকেলে এঘটনার পর এদিন সন্ধানাগাদ এখবর ছড়িয়ে পরলে উপজেলার গ্রামে গ্রামে শুরু হয় শোকের মাতম। এক সাথে এতোগুলো প্রাণ ঝড়ে যাওয়ায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পরেছে পুরো উপজেলা। ঘটনার খবর পেয়ে রাত থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাড়ী বাড়ী গিয়ে শান্তনা দেয়াসহ পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
‎নিহতরা হলেন,আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের গোফ্ফার প্রামানিকের দুই ছেলে মোহন ও সুমন,একই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল ও বজলুর রহমানের ছেলে কলিমউদ্দীন,ডুবাই গ্রামের বাদল তালুকদারের ছেলে সোহেল রানা ওরফে সুমন,একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ,মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামনিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক,পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ সরদারের ছেলে জলিল সরদার,মাধবপুর গ্রামের মুজনু সরদারের ছেলে মজিদুল সরদার সজিব,উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে ফরিদ উদ্দীন এবং সাধনগর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে সাগর আলী। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আত্রাই উপজেলার মোট ১৩জন নিহতের খবর জানালেও পরে নাম-ঠিকানা যাচাই অন্তে ১১জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেন।

‎সোমবার সরেজমিনে গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,এই গ্রামের মোট চার জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এবং নিহতদের সজনরা ছুটে এসে পরিবারের লোকজনকে শান্তনা দিচ্ছেন। সেখানে বার বার নিহতদের বাবা মা ও সজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পরে নানান বিলাপ করছেন। নিহত রুবেলের বাবা সাইদুর রহমান জানান,রুবেল মাত্র কয়েক মাস আগেই ছুটি শেষে সৌদি চলে যান। এরই মধ্যে গত ১৪দিন আগে আয়েশা জান্নাতি নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। রুবেল তার একমাত্র মেয়েকে শুধু মোবাইলে দেখে বার বার বুকে জড়াতে বাড়ীতে আসার কথা বলছিলেন। কিছু দিন পরেই তার বাড়ীতে আসার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ছেলেটা চলে গেলো। মেয়েকে আর বুকে জড়াতে পারলনা।
‎নিহত মোহন ও সুমনের বাবা গোফ্ফার প্রামানিক বলেন,যখন কারখানায় আগুন ধরেছে তখন ছেলেরা শেষ বারের মতো আমাদের সাথে কথা বলতে বার বার ইমু/হোয়াটসআপে ফোন করেছিলেন। কিন্তু আমাদের এখানে বিদ্যুৎ না থাকায় নেট পায়নি। ফলে সরাসরি কথা হয়নি। তবে ভয়েচ মেসেজে তারা আকুতি করে বলেছে তোমরা আমাদের জন্য দোয়া করো। তোমাদের সাথে হয়তো আর কথা হবেনা। কারখানায় আগুন ধরেছে,দরজা খোলা যাচ্ছেনা। হয়তো আমরা সবাই মারা যাবো একথা বলেই কান্নায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন বাবা গোফ্ফার। তিনি আরো বলেন,আমি আর ছোট ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধি। মোহন আর সুমনের আয়ের উপর নির্ভর করে আমাদের সংসার চলত। সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে গত ৮বছর আগে বড় ছেলে মোহনকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। এরপর সুমনকে গত ২বছর আগে মোহনের কাছে পাঠিয়েছি। তারা বলেছে গ্রামে বাসা নির্মান করেন। বাসার কাজ শেষ হলে দুই ভাই একসাথে এসে বিয়ে করবো। সেই লক্ষে গত বুধবার বাসা নির্মানের জন্য ভিত্তিস্থাপন করে কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু রোববার সন্ধায় এক খবরে যেনো সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো।

‎মধ্যবোয়ালীয়া গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন,গত ৮বছর আগে ছেলেকে বিদেশ পাঠাই। সেখানে যাবার পর সড়ক দূর্ঘটায় পা ভেঙ্গে যায়। ফলে দির্ঘদিন কাজ করতে পারেনি। কিছু দিন হলো কাজ করা শুরু করেছে। এরই মধ্যে স্বপ্ন পুরে শেষ হয়ে গেলো।‎ডুবাই গ্রামের নিহত সোহেল রানা ওরফে সুমনের বোন সুবর্ণা আক্তার বলেন,আমরা এক ভাই এক বোন। বাবার শেষ সম্বল দেড়বিঘা জমি এবং মায়ের সখের গহনা বিক্রি করে ভাইকে বিদেশ পাঠানো হয়েছে। এর কিছু দিন পরেই বাবা মারা গেছেন। গত দেড় বছর আগে ভাই বিদেশ থেকে এসে বিয়ে করে। বর্তমানে তার ৮মাসের পুত্র সন্তান রয়েছে। এখন কিভাবে সংসার চলবে আর এই সংসার কে দেখা শোনা করবে তা নিয়ে হতাশায় পরেছেন।
‎তবে নিহতদের সজনরাা দ্রুত তাদের সন্তানদের মরদেহ ফিরে পেতে সরকারের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন।

‎আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ১১জন নিহতের খবর নিশ্চিত করে বলেন,খরব পাওয়ার সাথে সাথে রাত থেকেই বাড়ী বাড়ী গিয়ে শান্তনা দেয়াসহ খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। আপাতত নিহতদের প্রতি পরিবারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া সরকারীভাবে আরো প্রতি পরিবারকে ৩লাখ টাকা করে দেয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং আরো অন্যান্য বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করতে চেষ্টা করছি। 

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন