মনোহরদীতে গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা
নরসিংদীর মনোহরদীতে এক গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগ এবং গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের বড়মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা পরিতোষ সূত্রধর শুক্রবার (৩ জুলাই) মনোহরদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি মামলা নং-০৬, তারিখ ০৩/০৭/২০২৬ হিসেবে রুজু করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুন দুপুরে বাদীর একটি গরুর বাছুর অভিযুক্তদের পলিথিনের গ্রিনহাউসে ধাক্কা দিলে তা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে অভিযুক্ত রেনু, মনির, বাদল ও সন্ধ্যা রানী সূত্রধর দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও বাঁশের লাঠিসোটা নিয়ে বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। সে সময় বাড়িতে একা থাকা চম্পা রানী সূত্রধরকে টেনে-হিঁচড়ে গ্রিনহাউসের ভেতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় চম্পা রানী সূত্রধরের বাম হাতের কব্জি ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পাশাপাশি তার শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে এবং গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদী ও তার পরিবারকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত চম্পা রানী সূত্রধরকে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে বাদী পরিতোষ সূত্রধর বলেন, “ঘটনার পর আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানাতে কিছুটা সময় লেগেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মনোহরদী থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত রেনু ও বাদলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
(অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।)
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: