• ঢাকা
  • বুধবার, ১৮ ফেরুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

শিক্ষকতা থেকে রাজপথ, নয়া সরকারের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হলেন মির্জা ফখরুল


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেরুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৪২ পিএম;
শিক্ষকতা থেকে রাজপথ, নয়া সরকারের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হলেন মির্জা ফখরুল

ছিপছিপে গড়ন, পরিশীলিত বাচনভঙ্গি আর দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পোড় খাওয়া এক মুখ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নামটা এখন আর একজন বিরোধী নেতার নয় বরং একজন কুশলী প্রশাসকেরও। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার অর্পিত হয়েছে তার কাঁধে। ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী হওয়া এই জননেতা এখন তারেক রহমানের সরকারের দেশ পুনর্গঠনের অন্যতম কান্ডারি।

লড়াইয়ের ময়দান ও জয়ের খতিয়ান

ঠাকুরগাঁওয়ের ঘরের ছেলে মির্জা ফখরুল এবারের নির্বাচনে হারিয়েছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের দেলাওয়ার হোসেনকে। নির্বাচনে দেলাওয়ার পেয়েছিলেন ১ লাখ  ৪১ হাজার ১৭ ভোট। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণের পর তাকে গুরুত্বপূর্ণ এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবং লন্ডনবাসী তারেক রহমানের পরম আস্থাভাজন হিসেবে তিনি দল সামাল দিয়েছেন চমৎকারভাবে।  এবার তার কাঁধে দেশের রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুভার দেওয়া হলো।

বর্ণাঢ্য জীবন 

মির্জা ফখরুল ইসলাম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  বাবা মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) ছিলেন আইনজীবী ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য। মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে পাড়ি জমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিনি অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

অধ্যাপক থেকে রাজনীতিক

রাজনীতির আঙিনায় আসার আগে ফখরুলের পরিচয় ছিল একজন শিক্ষক হিসেবে। ১৯৭২ সালে বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীকালে সরকারের অডিট বিভাগেও কাজ করেছেন। ১৯৭৯ সালে তদানীন্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি শিক্ষকতার পেশা ত্যাগ করে পুরোপুরি রাজনীতির ময়দানে নামেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমেই তার জনপ্রতিনিধি হওয়ার যাত্রার সূচনা হয়।

রাজনীতিতে চড়াই-উতরাই

মির্জা ফখরুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন কুসুমাকীর্ণ ছিল না। ১৯৯১ ও ১৯৯৬-এর নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০১ সালে সদ্যপ্রয়াত রমেশ চন্দ্র সেনকে হারিয়ে তিনি প্রথমবার সংসদে যান। তৎকালীন বিএনপি সরকারের কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের  প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও দলের সিদ্ধান্তে সে বার শপথ নেননি। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। ফ্যাসিবাদী শাসনকালে তিনি বহুবার জেল খেটেছেন। তাকে বহু প্রলোভন ও হুমকি-ধমকি দিয়েও দলের ঐক্যে ভাঙন ধরাতে পারেনি হাসিনা সরকার। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি দলকে এক সুঁতোয় বেঁধে রাখেন।

ক্ষমতার অন্দরমহল ও পারিবারিক শিকড়

মির্জা ফখরুল ইসলামের বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও আইনমন্ত্রী। অন্য চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ছিলেন মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আমলা। তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম শিক্ষা ও বিমা জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।  দুই কন্যার মধ্যে বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ার পোস্ট ডক্টরাল ফেলো এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ শিক্ষিকা। 

প্রথম দিনের প্রত্যয়

দায়িত্ব নিয়েই নিজের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তার প্রধান তিনটি লক্ষ্য রয়েছে। সেগুলো হলো- রোজার মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে জনমনে স্বস্তি ফেরানো। পাশাপাশি, দ্রুত পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করার ইঙ্গিতও দেন তিনি। 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন