• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ১১০০ বিঘার ফসল, ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিতে দিশেহারা কৃষক


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:১৭ পিএম;
হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড ১১০০ বিঘার ফসল, ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিতে দিশেহারা কৃষক

কলাগাছে ধরেছিল কাঁদি, আনারসের বাগানে এসেছিল ফলনের সময়, পেঁপে ও সবজি বাগানেও ছিল আশাব্যঞ্জক ফলন। ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল সব।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে মাত্র কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি বনাঞ্চলের শত শত কৃষকের সেই স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

কোথাও সারি সারি কলাগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস ও পেঁপের বাগান। ঝড়ে সবজি ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। এতে উপজেলার অরনখোলা, শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় অধিকাংশ কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে। ফলন্ত কলাগাছ উপড়ে বা হেলে পড়ায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পেঁপের বাগানেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্ষেতও ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেছেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে বিনিয়োগ করেছি। অনেক দিন ধরে পরিচর্যা করেছি। ফসল বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, সেটাই বুঝতে পারছি না।

আরেক কৃষক লালচাঁদের ভাষ্য, একটি কলাগাছ তৈরি করতে কয়েক মাস সময় ও টাকা লাগে। ফলন আসার পর যদি গাছ ভেঙে যায়, তাহলে পুরো বিনিয়োগই অনেকটা নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি সামাল দেওয়া খুব কঠিন।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলছেন, কলাগাছের মাজা ভেঙে যাওয়া বা একটি আনারসগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের ঋণ, শ্রম, পরিবারের খরচ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। অনেক কৃষক ধারদেনা করে বাগানে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে ঝড়ের এই ক্ষয়ক্ষতি তাদের আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের পর বিভিন্ন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে ভেঙে পড়া কলাগাছ ও ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের চিত্র। কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত বাগান ঘুরে দেখছেন এবং যেসব গাছ কিছুটা রক্ষা পেয়েছে, সেগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

অরনখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার আজিজুলের ভাষ্য, ৪৫ শতাংশ জমিতে ৫০০ কলা চাষ করেছি। এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। এই কলার ফলন বিক্রি করেই ঋণের টাকা পরিশোধ করব। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক মিনিটের ঝড়ে শেষ হয়ে গেল।

সাইফুল ইসলাম জানান, ২৮ বিঘা জমিতে ৫ হাজার কলা চাষ করেছিলেন তিনি। ২০ দিন আগে ৪১০ টাকা দরে সেই কলা বিক্রি করা হয়েছিল এবং ক্রেতা জালাল উদ্দীন এর বিপরীতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, মধুপুরে কয়েক মিনিটের ঝড়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত তার কাছে যে ক্ষতির হিসাব এসেছে, সেই তালিকা অনুযায়ী কলার বাগান রয়েছে প্রায় ৯০০ বিঘা এবং পেঁপে বাগান রয়েছে প্রায় ২০০ বিঘা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষকদের কিছু কলার বাগান আগে থেকেই বিক্রি করা ছিল এবং ক্রেতারা অগ্রিম টাকাও দিয়েছেন। এখন শুধু ক্রেতারা ধাপে ধাপে কলার কাঁদি কেটে নেওয়ার কথা ছিল।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন