ক্লাস ছেড়ে আড্ডা ও মেরামতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তালতলীর প্রধান শিক্ষককে শোকজ
বরগুনার তালতলী উপজেলার তাতিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষকদের আড্ডা এবং সরকারি ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে রেখে শিক্ষকরা বাইরে ছোটাছুটি ও আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ করা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে নামমাত্র তিনটি টিন ও তিনটি রুয়া পরিবর্তন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি।
এমনকি প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য কোনো আসবাবপত্র বা শিক্ষা উপকরণ নেই। নেই আলাদা কোনো শ্রেণিকক্ষও। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বই রাখার টেবিলটি বছরের পর বছর ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও সেটিও সংস্কার করা হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে আত্মসাতের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার জানান, গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়টি আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিক ও সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বিদ্যালয় চলাকালীন চেয়ার পেতে বিদ্যালয়ের বাইরে আড্ডা দিচ্ছেন। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ সঠিকভাবে না করা এবং হোম ভিজিটের কোনো তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করতে না পারায় এসব অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ২(খ) অনুযায়ী কেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং-৫৯১) প্রধান শিক্ষককে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। একই সঙ্গে বিগত তিন অর্থবছরে বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বিবরণীও তলব করা হয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: