সাত মাসে ৩০ ভূমিকম্প, ঢাকার ৬ লাখ বহুতল ভবনের ৪০ শতাংশই ঝুঁকিতে
সাত মাসে দেশে মোট ভূমিকম্প হয়েছে ৩০টি। যার মধ্যে ২৯টিরই উৎপত্তি দেশের ভেতরে। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ৬ লাখ বহুতল ভবনের প্রায় ৪০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাণহানি কমাতে ভূমিকম্প-সহিষ্ণু ভবন নির্মাণের তাগিদ তাদের।
৭ জুন সারা দেশে অনুভূত হয় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, যার উৎপত্তি ছিল ভুটান। এর আগে মে'তে অনুভূত হয় ৩টি ভূমিকম্প। গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে ৭ জুন পর্যন্ত মোট ৩০টি ভূমিকম্পের ২৯টিরই উৎপত্তি বাংলাদেশে। তাই, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল। একশ বছরে দেশে কোনো বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে, বলছে সংস্থাটি।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক রুবাইয়াৎ কবীর বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের যে প্রবণতা; পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি। দক্ষিণাঞ্চলে ঝুঁকিটা কম। ১০০ বছরের মধ্যে যেহেতু ভূমিকম্প হয়নি, সেহেতু বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি আছে।
ভূমিকম্পের প্রস্তুতিতে ভবন নির্মাণে প্রথম গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকায় প্রায় ৬ লাখ বহুতল ভবনের ৪০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। ভবন নির্মাণে সতর্ক না হলে ভূমিকম্পে প্রাণহানি বাড়ার শঙ্কা তাদের।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারি বলেন, ১৮৯৭ সালে ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ছিল ঢাকা থেকে ২৩০ কিলোমিটির দূরে; সেই ভূমিকম্পে ঢাকাতে প্রায় ১৫ জন মারা যান, একটি কয়েকটি ভবন ভেঙে পড়ে। এখন ঢাকায় মানুষ বেশি, পাকা দালানও বেশি। সেই ভূমিকম্প যদি ঢাকায় আসে, তাহলে হতাহত অনেক বেশি হবে।
ভূমিকম্পের পর গ্যাসের চুলা থেকে আগুন লাগার শঙ্কাও জানান বিশেষজ্ঞরা। নতুন ভবন ভূমিকম্প সহনীয় করা ছাড়াও পুরনো ভবনকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ করার পরামর্শ তাদের।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব আহসান বলেন, যে বিল্ডিং, যে স্থাপনাগুলো আছে; সেগুলো দুর্বল। সেগুলোকে মজবুতায়ন করতে হবে। সেটা সময়সাপেক্ষ ও খরচসাপেক্ষ ব্যাপার।
ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: