• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

জনবান্ধব বাজেটে স্বস্তির বার্তা,রাজস্ব আহরণে বড় চ্যালেঞ্জ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৪৮ পিএম;
জনবান্ধব বাজেটে স্বস্তির বার্তা,রাজস্ব আহরণে বড় চ্যালেঞ্জ

করছাড়ের মহোৎসব নাকি অর্থনীতির কৌশল? জনবান্ধব বাজেটে স্বস্তির বার্তা,রাজস্ব আহরণে বড় চ্যালেঞ্জ

নজরুল ইসলাম আলীম:

 

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন উৎস তৈরি করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ কর রেয়াত ও প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেটকে অনেকেই ‘জনতুষ্টির বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করছেন, কারণ এতে নতুন কর আরোপের পরিবর্তে করছাড় ও প্রণোদনার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে।বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিভিন্ন শর্তের মধ্যেও সরকার জনজীবনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের বোঝা কমিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে।করদাতাদের জন্যও থাকছে স্বস্তির বার্তা। করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে আয়করের ৫ শতাংশের প্রথম ধাপ বাতিলের পরিকল্পনা সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়কারীদের করের চাপ কমাবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।তবে বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয় করমুক্ত রাখা হবে। শুধু তাই নয়, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক আয়ের ক্ষেত্রেও কর অব্যাহতির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনাকে উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে শিল্প খাতের জন্যও থাকছে একাধিক প্রণোদনা। স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও ইলেকট্রিক যানবাহন উৎপাদনে কর সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। মোবাইল ফোন শিল্পের জন্য ২২টি কাঁচামালে উৎসে কর কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণ এবং ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।সবুজ অর্থনীতি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি এবং সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ রেয়াতের উদ্যোগ সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরও জনপ্রিয় করে তুলতে পারে।স্বাস্থ্য খাতেও আসছে স্বস্তির খবর। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হৃদরোগের রিং, চোখের লেন্স এবং ক্যানসারের ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে কর ও ভ্যাট ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্যও ইতিবাচক বার্তা থাকছে বাজেটে। ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর অব্যাহতি এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত রাখার উদ্যোগ উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।তবে এতসব করছাড় ও প্রণোদনার বিপরীতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজস্ব আহরণ। সরকার যখন একদিকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করবে, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে কর রেয়াত ও করমুক্ত সুবিধা বাড়াবে, তখন রাজস্ব ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, করের হার বৃদ্ধি না করে করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে।সার্বিকভাবে আসন্ন বাজেটকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সবুজ অর্থনীতির প্রসারের লক্ষ্যে প্রণীত একটি জনবান্ধব বাজেট হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন