• ঢাকা
  • সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বিএসএফের পুশইন ও সীমান্ত হত্যার কড়া জবাব দেবে বিজিবি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৩৯ এএম;
বিএসএফের পুশইন ও সীমান্ত হত্যার কড়া জবাব দেবে বিজিবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ-ভারতের দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সোমবার (৮ জুন)। সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা ও পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটের মধ্যেই ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের সম্মেলন।

সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন বন্ধ, আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ভারতের ড্রোন-হেলিকপ্টার ব্যবহার, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, স্থায়ী সীমান্ত পিলার স্থাপন এবং আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা বৈঠকে তুলে ধরবে বিজিবি।

গত ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত চারদিনে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের ঘটনা সফল হতে দেয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ঘটনার মাধ্যমে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল।

বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার সীমান্তের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ, ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত আছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে। বাকি সীমান্ত রয়েছে ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যে। ভারত কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। বেশিরভাগ অংশই অরক্ষিত।

ভারতের কেন্দ্রীয় শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএসএফ পুশ-ইনে বেশি তৎপর বলে জানা যায়। অন্তত পরিসংখ্যান তাই বলছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘোষণা দেন, অবৈধ বাংলাদেশি ও অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, এবারের বৈঠকে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধের দাবি প্রথম এজেন্ডায় থাকছে। বিগত দুই বছরে বিএসএফ বাংলাদেশে ২২শর বেশি মানুষকে পুশ-ইন করেছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও ভারতীয় নাগরিকও রয়েছে। গত মাস থেকে শুরু করে চলতি জুন মাসে বিএসএফ বাংলাদেশের বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ২শর বেশি মানুষকে পুশ-ইন করার চেষ্টা করে। পুশ-ইন নিয়ে বিএসএফের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে বিজিবি।

জানা যায়, বিএসএফ বা ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধভাবে ড্রোন ও হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রায়ই প্রবেশ করছে। বিএসএফ সীমান্তের নদী ও পাহাড়বেষ্টিত দুর্গম এলাকায় নজরদারির জন্য ড্রোন ওড়ায়। দেশের উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকায় ভারতীয় হেলিকপ্টার প্রবেশের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ বন্ধে ভারতকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব জানাবে বিজিবি।

বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক প্রকল্পের আওতায় পাটগ্রাম-দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন প্রকল্পের জন্য তিনবিঘা করিডোর ব্যবহারের এজেন্ডা উত্থাপন করবে বিজিবি। ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা গ্রামে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করতে হলে এর সংযোগ সড়ক তিনবিঘা করিডোর ছাড়া কোনো উপায় নেই।

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা আগরতলা থেকে আখাউড়ামুখী চারটি খাল দিয়ে ত্রিপুরার শিল্পবর্জ্য আসার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি উপজেলার নদী-নালা-খালের পানির গতিপথের স্রোত কমে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়।

আগরতলার শিল্পবর্জ্য ত্রিপুরার চারটি খাল দিয়ে বাংলাদেশের আখাউড়ায় প্রবেশ করে। এতে এলাকার ফসলি জমির উর্বরতা কমে গেছে। পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে আখাউড়ায় চার খালের মুখে চারটি বর্জ্য শোধনের জন্য ইটিপি স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ। এই ইটিপি স্থাপনের খরচ ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে বহন করার প্রস্তাব দেবে বিজিবি। এছাড়া ভারতের অভ্যন্তরে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও তাদের কর্মকাণ্ড বিষয়েও আলোচনা তুলবে।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, দুই দেশের সীমান্ত পর্যায়ের এ বৈঠকে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের বিষয়ে একটি প্রস্তাব তুলবে বিজিবি। এজেন্ডায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের সীমান্ত সম্পর্কে ভারতীয় গণমাধ্যমে নেতিবাচক তথ্য প্রচার হচ্ছে। এমনকি ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের সীমান্ত সম্পর্কে উসকানিমূলক ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন ভিডিও বানিয়ে তা প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে দুই দেশের সীমান্ত এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে। এসব মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধ করতে ভারতের সম্প্রচার ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে বিএসএফের মাধ্যমে অনুরোধ জানাবে বিজিবি।

এছাড়া মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন, ১৫০ গজের ভেতরে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।

ভারতের নর্থইস্ট নিউজ এক প্রতিবেদনে বিএসএফের বরাত দিয়ে জানায়, তারা বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয়দের ওপর কথিত হামলা এবং সীমান্ত বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়গুলো উত্থাপন করবে। বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা প্রতিরোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, ভারতে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ ও সীমান্ত বেড়া নির্মাণ, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই বাহিনীর মধ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ এবং সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিক বিষয় বৈঠকে উত্থাপন করবে বিএসএফ।

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সবশেষ ঢাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।

বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে সম্মেলনে অংশ নেবে ভারতীয় প্রতিনিধিদল। তাদের প্রতিনিধিদলে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়/সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থার কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন