আসিফ নজরুলের ‘দুর্নীতি’, তার ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার পর উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাদের দুর্নীতির অভিযোগ জমা হচ্ছে। প্রকাশ পাচ্ছে গণমাধ্যমে। সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন অনেকে।
সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের আইনের মুখোমুখি করার দাবি উঠেছে।
সাবেক যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে একজন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন ও অন্যান্য অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
বলা হচ্ছে, উপদেষ্টা পদে থেকে আসিফ নজরুল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জামিনের মাধ্যমে কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন। দেশের বাইরেও অর্থপাচারের অভিযোগ তোলা হচ্ছে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে।
তবে সাবেক এই উপদেষ্টার দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি।
নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিনি, আমার কোনো নতুন সম্পদ হয়নি। আয়কর দেওয়ার সময় আমি কোনো সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখিনি।’
স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করে ওই পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আমি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দিইনি।’
সাবেক এই উপদেষ্টা দীর্ঘ ওই পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘যারা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, আপনাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করার রুচি আমার নেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে যে দিনশেষে আমার কোনো ক্ষতি আপনারা করতে পারবেন না।
আমাকে গত ২০ বছরে বহু অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। আল্লাহ আছেন, আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’
সম্প্রতি দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়-সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার বদলি করা হয়েছে। আট মাসে (অক্টোবর-২৪ থেকে এপ্রিল-২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন।
এদিকে আফিস নজরুলের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ মামলা ও জামিন বাণিজ্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিন বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে করিয়েছেন তিনি।
আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি তোলা হচ্ছে নৈতিক দুর্নীতিরও অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মানুষের ন্যায়বিচার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। সম্প্রতি সাংবাদিক মাসুদ কামাল এক ভিডিওতে বলেন, ‘আনিস আলমীগের নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পেছনে যে আসিফ নজরুলের ভূমিকা ছিল, এ ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহ নেই। এখানে হয়তো টাকা-পয়সা পাওয়ার ব্যাপার নেই। কিন্তু তিনি যে কাজটা করেছেন সেটা অনৈতিক।’
এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহবুব আজীজকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে। জবাবে মাহবুব আজীজ বলেন, ‘নৈতিক দুর্নীতিও অনেক বড় দুর্নীতি। আর্থিক দুর্নীতি অত দেখা যায় না। কে কী করেছেন আস্তে আস্তে হয়তো উদঘাটিত হবে। কিন্তু নৈতিক দুর্নীতি তারা যে করেছেন? তারা যে একটা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে, লালিত পালিত করে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসিয়ে দিয়ে গেলেন? এটা রাষ্ট্রকে বহুদিন বহন করতে হবে। জাতির সামনে এটা পাথরের মতো এসে উপস্থিত হয়েছে।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: