কলকারখানা অধিদপ্তরের শীর্ষ পদে রদবদল নিয়ে আলোচনা
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ)-এর সাম্প্রতিক পদায়ন ও রদবদলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উপমহাপরিদর্শক আতিকুর রহমানকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সুবিধাভোগী হিসেবে প্রভাবশালী মহলের সমর্থন পেয়ে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আলোচনায় তাঁকে সাবেক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে কোনো সরকারি বা আদালত-স্বীকৃত তথ্য প্রকাশিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও আচরণগত বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয় এবং একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষও তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিন পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতা, মেধা ও পেশাগত দক্ষতার পরিবর্তে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তারা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ডাইফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, প্রশাসনিক প্রয়োজন ও সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এ ধরনের বিতর্কও কমে আসবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / নিজস্ব প্রতিবেদক
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: