আত্রাইয়ে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ফসলি জমির মাটি কাটায় পরিবেশ ও কৃষি জমি হুমকিতে
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের জগদাশ এলাকায় কৃষি ফসলি জমি থেকে রাতের বেলা ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও কৃষিজমি উভয়ই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি ১৫ জানুয়ারি পাঁচুপুর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, জগদাশ শিকারপুর বিলে ফসলি জমি থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৪ ফুট গভীর করে টপ সয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব মাটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে অনুমোদনবিহীন মাহিন্দ্রা ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক অবাধে চলাচল করছে, যার ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ট্রলি ও ট্রাকে বহন করা মাটি সড়কের ওপর পড়ে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চলাচলের কারণে সারাদিন রাস্তাঘাট ধুলোর কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বৃষ্টির সময় সড়কে জমে থাকা মাটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা নগদ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অল্প দামে জমির মালিকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে নেয় এবং তা বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায় বিক্রি করে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, ফসল উৎপাদন কমছে এবং ধীরে ধীরে আত্রাই উপজেলার ভৌগোলিক চিত্রও পরিবর্তিত হচ্ছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, ফসলি জমি কেটে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে এবং সেই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। জমির মালিক মিল্টন সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিজেদের প্রয়োজনেই আমরা জমি থেকে মাটি কাটছি। কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন করছি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় ইটভাটাগুলো কৃষিজমির টপ সয়েল তুলে নিচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ফেললে জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। টপ সয়েল হলো মাটির সবচেয়ে উর্বর স্তর, যা জৈব ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। সাধারণত মাটির ওপরের ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত এই স্তর থাকে। এটি ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টপ সয়েল নষ্ট হলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্তত তিন বছর সময় লাগে। তিনি আরও জানান, কৃষকদের টপ সয়েল না কাটতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.নূরে আলম সিদ্দিক বলেন,তথ্য পেয়ে ভেকু (এক্সকাভেটর)এর ব্যাটারী সিস করে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কৃষিজমির মাটি কাটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো.আলাউল ইসলাম বলেন, ভেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: