• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা, ৫০ আসন ফাঁকা রেখেই সমঝোতা ১০ দলের!


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:২৩ পিএম
ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা, ৫০ আসন ফাঁকা রেখেই সমঝোতা ১০ দলের!

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৫০টি আসন রেখে বাকি ২৫০ আসনে সমঝোতা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের মধ্যে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক‍্য’।

নির্বাচনী ঐক্যের এই জোটে ইসলামী আন্দোলনকে রাখতে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বাকি ১০ দল। চূড়ান্ত সমঝোতায় রাজি করতে ইসলামী আন্দোলনের সাথে আলোচনার জন্য ১০ দলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, কোন দলকে কতটি আসনে ছাড় দেওয়া হবে, বৈঠকে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি জামায়াত কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। ৫০ আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের জন্য। তারা না এলে পরবর্তী সময় বাকি আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

দুপুরে চলমান বৈঠক থেকে বেরিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সাংবাদিকদের জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে। তিনি চরমোনাই পীরের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মামুনুল হক বলেন, ১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। রাতের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই আসন ঘোষণা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। এই জোট নিয়ে আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে, এটা জনগণ বুঝে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে, এটা সবার প্রত্যাশা। যেসব মতভিন্নতা হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো কেটে যাবে। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা হবে এই জোট যেন অটুট থাকে। কারও মতানৈক্য থাকলেও জোট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ৩০০ আসনে কোনো দলীয় প্রার্থী হবে না, সবাই জোটের প্রার্থী হবে। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করবে।

একই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে আমরা কোন ঝামেলার ভেতরে নাই এবং আমাদের ভেতরে যে আলাপ, আলোচনা হচ্ছে। কিছুটা মতভিন্নতা হচ্ছে, এটাকে এটা ঝামেলা বলা যায় না। দ্বিতীয়ত হচ্ছে আমরা কথা বলবো রাত ৮টায়।  

বৈঠকের শেষে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, আজ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এবি পার্টির পক্ষ থেকে আমাদের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশগ্রহণ করি। বৈঠকে আমাদের বক্তব্য ছিল— 

১. ১১ দলের আসন সমঝোতার লক্ষ‍্য কী? সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমঝোতার সুনির্দিষ্ট একটি “রাজনৈতিক স্মারক” নির্ধারণ করা। 

২. আসন সমঝোতায় দলীয় অবস্থান, সমর্থন ও সক্ষমতার পাশাপাশি সংসদে দক্ষতা, যোগ্যতা, নারী নেতৃত্ব, ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ বিশেষ কৃতিত্ব সম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া। 

৩. আসন সমঝোতায় অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্মবন্টনসহ যথাযথ সমন্বয় নীতি প্রণয়ন ও মেনে চলা।
 
৪. কিছু আসন ওপেন  রাখা।

আজ রাত ৮টায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আশাকরি পরবর্তী সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসবে।

আজকের বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ অংশ নেন।

সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয় নাই, বহুমাত্রিক আলোচনা এখনো চলছে বলে জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই বিষয়ে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনাও করেছে দলটি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের ‘একবক্স’ নীতিকে ভিত্তি করে যে রাজনৈতিক সমঝোতার পথচলা শুরু হয়েছিল তা জাতির মনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সেই পথচলায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো আসে নাই। 

তিনি বলেন, নেতারা বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত কিছু বলার মতো অবস্থা তৈরি হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অপরাপর দলসমূহ আনুষ্ঠানিভাবেই জাতিকে অবহিত করবেন।

বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বৈঠকের বিষয়ে সকাল ১০টার দিকে জানতে পেরেছেন তারা। সে কারণে প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে জামায়াতের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলমান। এখনো আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। আলাদা হয়ে যাওয়ারও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আজ দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করছি, কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন মন্তব্য বা লেখালেখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেছেন।’

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান লেখেন, ‘আপনাদের প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ রাখতে চাই—সত্যিই যদি আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধরনের সব কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন।’

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন