গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে হত্যা
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার উল্লাহ দলটির রোকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
এ সময় দুই হত্যাকারী বাসা থেকে আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা চুরি করতে ওই বাসায় ঢোকার পর তাদের দেখে ফেলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে পরিবারের দাবি, এটি নিছক চুরি নয় বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
আজ সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে চুরির জন্য কেউ বাসায় ঢুকেছিল। ভিকটিমের মুখ কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের শেরেবাংলা নগর থানা দক্ষিণ এলাকার সভাপতি হাসান আল বান্না বলেন, ওই বাসার দোতলায় স্ত্রীসহ বসবাস করতেন আনোয়ার উল্লাহ। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুইজন ওই বাসায় ঢুকে। এরপর আনোয়ারের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় তার স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তারা আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নেয়।
তিনি আরও বলেন, আনোয়ার পেশায় শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পর হোমিও চিকিৎসায় যুক্ত হন। অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে এলাকায় মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে দুজন ওই চিকিৎসকের বাসায় ঢুকে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের বের হতে দেখা যায়। জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তারা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বাসার ভেতরে অবস্থান করে।
পরিবারের ভাষ্য- মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বাসা ছাড়ে। আনোয়ারের ভাতিজা বলেন, হত্যার সময় তারা বলেছে- ‘তোকে এখন মেরে ফেলব, কালেমা পড়।’ তখন ফুফা বলেন, ‘আমি কালেমা জানি, আমি নিজেই পড়তে পারব।’ এরপর তাকে সামান্য পানি খেতে দেয়। একেবারে মৃত্যু নিশ্চিত করেই তারা বের হয়ে যায়।
দৈনিক পুনরুত্থান /
- বিষয়:
- জামায়াত নেতা
- হত্যা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: